ইভিএমে বিড়ম্বনা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০:২২ পিএম

যন্ত্র নিয়ে ভীতি এবং অজ্ঞতার কারণে ইলেকট্র্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভোটারদের আগ্রহ জাগাতে পারেনি। কোথাও কোথাও ত্রুটির কারণে যন্ত্রটি ব্যবহারই করা যায়নি। আবার কোথাও নিরক্ষর লোকজন যন্ত্রের ব্যবহার না জানায় গোপন কক্ষে নিয়ে গেছেন সাহায্যকারী। মেশিনটি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন ইভিএম যন্ত্র ব্যবহার করা কেন্দ্রগুলোর ভোটাররা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

মেহেরপুর : এবারই প্রথম মেহেরপুরে ইভিএমের সাহায্যে ভোটগ্রহণ হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় ভোটারদের গোপন কক্ষে অন্যদের সাহায্য নিয়ে ভোট দিতে হয়েছে। এতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ভোটাররা।

সরেজমিনে বিভিন্ন ইভিএম কেন্দ্রে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। ভোটারদের অভিযোগ ইভিএম অজ্ঞতার কারণে ভোটার উপস্থিতি এবার কম। সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের পিরোজপুর সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভোট দেন তিনজন।

পোলিং কর্মকর্তা আসলামউদ্দিন জানান, ইভিএমে ভোট দিতে পারবে নাÑ এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে ভোটাররা ভোট দিতে আসছেন না।

মেহেরপুর শহরের অন্যতম মেহেরপুর উচ্চ বালক বিদ্যালয় কেন্দ্র। দুপুর ১টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভোট হচ্ছে ইভিএমে। ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, তার কক্ষে ৩৪০ ভোট। দেওয়া হয়েছে ৪১টি। মেহেরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে আবু সাইদ নামে এক ভোটার গোপন কক্ষ থেকে ঘুরে এসে বললেনÑ ‘ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে হয় কীভাবে জানি না। তাই একজন সহায়ককে গোপন কক্ষে নিয়ে গিয়ে ভোট দিতে হলো।’ ভোটার তছিরুন নেছা শাপলা গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট না দিয়ে এসে বললেন, ‘প্রার্থী কে জানি না। গেলাম নৌকায় ভোট দেব বলে। কিন্তু ইভিএমে নৌকা প্রতীক না পেয়ে ফিরে এলাম।’

তাদের দুজনের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেল, প্রথমজন কোনো প্রার্থীকে পছন্দ করে নয়, ইভিএমে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিতে এসেছিলেন। অন্যজন জানেন না মেহেরপুর সদরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ইভিএমে নৌকা প্রতীক নেই। মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কবীরউদ্দিন জানান, পাড়া-মহল্লায় ইভিএমে ভোট দেওয়ার নিয়ম দেখানোর জন্য ভিডিও প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ভোট নিয়ে মানুষের আগ্রহ না থাকায় সরকারের কোনো উদ্যোগই কাজে আসেনি।

মানিকগঞ্জ : সদর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। কিন্তু উপজেলার মত্ত সরকারি প্রাথমিক বালক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ আরও চার-পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিলম্বে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

মত্ত সরকারি প্রাথমিক বালক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ইভিএমের যান্ত্রিক সমস্যা থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরে মানিকগঞ্জে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা মেশিনটি ঠিক করলে সকাল ১০টা ২০ মিনিট থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এদিকে সদর উপজেলার প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে আশা করছিলেন নতুন পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের ফলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রমুখী হবে। কিন্তু কোনো ভোটকেন্দ্রই ভোটারদের সরব উপস্থিতি ছিল না।

ইভিএম সংবলিত ভোটকেন্দ্রের এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল ইভিএম থাকায় ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে। কিন্তু প্রার্থীদের আত্মীয়-স্বজন ছাড়া সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত