ভাঙা সেতুতে দুর্ভোগ ১০ গ্রামের মানুষের

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ০১:৫৫ পিএম

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন-জপসা সড়কের তিনটি সেতু ভাঙা। দুই বছর ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একটি সেতু দুই বছর আগে বন্যায় বিধ্বস্ত হয়। দুটি সেতুর রেলিং ভেঙে যাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই সড়কটি সংস্কার করা হলেও সেতু তিনটি নির্মাণ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ওই এলাকার ১০টি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নড়িয়া উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন, জপসা, রাজনগর ও ভোজেশ্বর ইউনিয়নের মানুষদের যাতায়াতের জন্য একটি কাঁচা সড়ক ২০১০ সালে পাকা করা হয়। নির্মাণ করা হয় তিনটি সেতু। নশাসন-জপসা সড়কটি দিয়ে ওই চারটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে।

নশাসন-জপসা সড়কটি ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের মাঝিকান্দি হতে ভোজেশ্বর-মাঝিরহাট সড়কে মিশেছে। ওই সড়ক ধরে গ্রামের মানুষ বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, জেলা শহর, উপজেলা শহর ও রাজধানী ঢাকায় যাতায়ত করেন। কৃষিপ্রধান ওই গ্রামগুলোর কৃষিপণ্য আনা-নেয়ার একমাত্র ভরসা ওই সড়কটি। কিন্তু দুই বছর ধরে ওই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

২০১৬ সালে বন্যার পানির তোড়ে নশাসন-জপসা সড়কের মাঝিকান্দি এলাকার সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। সেতুটি সংস্কার করা না হলে স্থানীয় বাসিন্দারা হেঁটে চলাচলের জন্য বাঁশের একটি সাঁকো তৈরি করেন।

ওই সড়কের কান্দাপাড়া এলাকায় দুটি সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে। সেতুর দুই প্রান্ত থেকে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু সেতু তিনটি সংস্কার না করেই নশাসন-জপসা সড়কের ছয় কিলোমিটার এলাকা সংস্কার করার কাজ চলছে।

নড়িয়ার নশাসন ইউনিয়নের মালতকান্দি গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আগে মাটির সড়ক ছিল আমরা একভাবে চলাচল করতাম। এরপর পাকা করা হলে ছোট গাড়ি চলাচল শুরু হয়। বেশ ভালোভাবেই চলাফেরা করতাম। এখন সেতুগুলো ভেঙে যাওয়ায় কোনো গাড়ি গ্রামে আসতে পারে না। আমাদের পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। কৃষিপণ্য মাথায় করে আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে।”

মাঝিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ধলু মিয়া বলেন, “গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে সবচেয়ে অসুবিধায় পড়তে হয়। অসুস্থ শরীর নিয়ে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ যাওয়া যে কত কষ্টসাধ্য তা অন্য কেউ বুঝবে না। দুই বছরের এ ভোগান্তি কবে শেষ হবে কে জানে।”

জপসা ইউনিয়নের কান্দাপারা গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব শেখ বলেন, “এই সড়কটি দিয়ে ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। পায়ে হেঁটে শিশুদের যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। ১০টি গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ প্রতিদিন এ সড়কটি ব্যবহার করে। কিন্তু কি কারণে সেতু তিনটি মেরামত করা হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য হয় না।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী সুপ্রিয় মুখার্জি বলেন, “নশাসন-জপসা সড়কের ছয় কিলোমিটার সংস্কার করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু তিনটি সংস্কারের কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ওই সেতু তিনটি সংস্কার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত