পাচারকারী চক্র আটক, রোহিঙ্গা নারী উদ্ধার

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে মানবপাচারকারী চক্রের ২ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার ও মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ৪ রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৩।

বুধবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ এর পরিচালক লে. কর্নেল মো. এমরানুল হাসান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। মঙ্গলবার এক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার ও রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নারীদের ক্যাম্পে প্রত্যাবর্তন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

গ্রেপ্তার মানবপাচারকারীরা হলেন- আব্দুল হামিদ (৩০), পিতা- ফোরকান আহমেদ, সাং-কালিরচর, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার এবং মো. রিয়াদ হোসেন (৩৪), পিতা-মৃত মিজানুর রহমান, সাং-তেঘরিয়া, থানা কেরানীগঞ্জ, জেলা ঢাকা।

উদ্ধারকৃতরা রোহিঙ্গারা হলেন- মিয়ানমারের মন্ডু শহরে বাগঘুনার বাসিন্দা শামসুল আলমের স্ত্রী হাসিন বেগম (২৫) এবং মিয়ানমারের ভুচি দং এলাকার হানজামার কূয়ার বাসিন্দা কালিমুল্লাহর মেয়ে রুমা আক্তার (১৮), আব্দুর রহিমের মেয়ে বুশরা আক্তার (১৯), মো. তৈয়বের মেয়ে ছাবেকুন্নাহার (১৮)। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের মুখে পালিয়ে এসে উদ্ধারকৃতরা কক্সবাজারের  উখিয়ার বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল বলে র‌্যাব জানায়।

এনামুল হাসান আরও বলেন, ,আসামি আব্দুল হামিদ বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে চট্টগ্রাম এলাকা হতে মানবপাচারের সহযোগী হিসাবে কাজ করে। উখিয়া ক্যাম্পের মোমিনুল হাকিম এবং জাহিদ নামে দুই দালাল মার্চ মাসের প্রথম দিকে উদ্ধারকৃত মিয়ানমারের ৪ জন রোহিঙ্গা নারীকে সৌদি আরবে পাচারের উদ্দেশ্যে আব্দুল হামিদের খিলগাঁও এলাকার ভাড়া বাসায় রেখে যায়‌।

তিনি আরও বলেন, ‘দালাল মো. রিয়াদ হোসের এর মাধ্যমে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করে উদ্ধারকৃত ৪ জন নারীর পাসপোর্টের আবেদন কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে জমা দেয় তারা। পাসপোর্টগুলো সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই অভিযানে আমরা পাচারকারীদের আটক ও রোহিঙ্গা নারীদের উদ্ধার করি’।

আব্দুল হামিদের তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাসপোর্টের দালাল মো. হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজতে বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট, ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের কপি, পাসপোর্ট ফরম ও ১টি কম্পিউটার জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘বিনা বয়সায় সৌদি আরবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এই নারীদের সৌদি আরব যেতে রাজি করিয়ে পরে তাদেরকে পাচার করা হয়’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত