চুড়িহাট্টায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চাকরি-বাসার ব্যবস্থা হবে

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ০২:৪০ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘পুরান ঢাকার ব্যবসা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নগর কর্র্তৃপক্ষ নগরীতে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে, ব্যবসার প্রসার জীবনের জন্য, জীবনমান উন্নয়নের জন্য, জীবনের বিনিময়ে নয়।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক গণশুনানিতে তিনি আরও বলেন, ‘চুড়িহাট্টায় ক্ষতিগ্রস্ত যাদের সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে তারা যদি আবেদন করে, তাহলে তাদের জন্য ডিএসসিসি চাকরি এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে।’ এ জন্য তহবিল গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি।

‘অগ্নিঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ পুরোনো ঢাকা’ শীর্ষক এই গণশুনানি যৌথভাবে আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), ব্লাস্ট, ব্র্যাক, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট ও নিজেরা করি। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান।

নিষিদ্ধ ৩৫টির বাইরেও অতিদাহ্য রাসায়নিক পুরান ঢাকায় রয়েছে দাবি করে মেয়র বলেন, ‘ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলায় পারফিউমের গোডাউনে যে রাসায়নিক ছিল সেটিও অতিদাহ্য তালিকাভুক্ত ছিল না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এটা অতিদাহ্য এবং বিস্ফোরকের মতো কাজ করেছে।’

সভাপতির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘এত এত উন্নয়ন হচ্ছে আমাদের, তার পাশাপাশি কেন নিজেদের মধ্যে সচেতনতা, সমন্বয় ও দায়বদ্ধতা তৈরি করতে পারলাম না। যে দেশে সুশাসনের প্রচণ্ড অভাব থাকে সে দেশে কোনো মানুষই কোনো কাজকে নিজের কাজ মনে করে না। কাজেই সুশাসন ফেরত নিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতির জায়গায় কঠোরভাবে আঘাত করতে হবে।’

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় তো কেমিক্যালের গন্ধে ঢোকাই যায় না। এটা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। মামলা-হামলা দিয়ে কিছু হবে না। গণসচেতনতা বাড়াতে হবে আর কেমিক্যাল ব্যবসা কখনো জনবসতি এলাকায় হতে পারে না।’

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকদ্রব্য সরানো পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে না অভিযোগ করে বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের প্রধান ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘কেমিক্যালগুলো কীভাবে সরানো হচ্ছে, কোথায় রাখা হচ্ছে, এসব কিছুই পরিকল্পনামাফিক হচ্ছে না।’

গণশুনানিতে আরও বক্তব্য দেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সাদেকুল ইসলাম, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, ব্র্যাকের পরিচালক শেখ জেনিফা খানম জব্বার।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক আবদুস সালাম ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ও পারফিউমারি মার্চেন্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেনসহ চুড়িহাট্টার আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত