খুলনা উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ

অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের শাস্তি বাধ্যতামূলক অবসর!

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩২ এএম

প্লট দেওয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মুখে খাজনা আদায়কারী মনোজ কুমার রায়কে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (কেডিএ)। তার বিরুদ্ধে আবাসিক প্লট পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৬২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত নয়জন এ ব্যাপারে কেডিএতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ৬ মার্চ মনোজকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

লিখিত অভিযোগ ও কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, খাজনা আদায়কারী মনোজ কুমার রায় দীর্ঘদিন নগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি এলাকায় বসবাস করতেন। সেই সূত্রে জমি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই এলাকার অনেকের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। এভাবে চেকের মাধ্যমে প্রায় ৬২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মনোজ। এদের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের গাড়িচালক হারেজ পাটোয়ারীর স্ত্রী হাসিনা বেগমের নামে কেডিএ মীরেরডাঙ্গার আবাসিকে ২ দশমিক ৬ কাঠার ৩৮২ নম্বর প্লট কিনে দেওয়ার কথা বলে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ১০ লাখ টাকার চুক্তি করে মনোজ। কয়েক দফায় চেকের মাধ্যমে টাকা নেন তিনি। জমি দিতে না পারায় মনোজ পরে হাসিনাকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দুটি চেক দেন। হাসিনা ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে জানানো হয়, অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা  নেই। এ ব্যাপারে তিনি আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন।

হাসিনা ছাড়াও অনেকে কেডিএ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। মনোজের বিরুদ্ধে প্রবাসী মঞ্জুর সাড়ে ৭ লাখ, গিলাতলা জাহানাবাদের রেজাউল করিমের আড়াই লাখ, গিলাতলা রবিউল ইসলামের ৫ লাখ, মহেশ্বরপাশা গোলকধামের রহি কু-ুর ৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬২ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মিলেছে।

হাসিনার স্বামী হারেজ পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার নিকট থেকে ১১ লাখ টাকা নিয়েছে। ছয় কিস্তিতে এই টাকা পরিশোধ করি। আজ-কাল করে প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেল, এখনো টাকা পাইনি। এখন বলছে, টাকা দেবে না। অফিসে গিয়ে শুনি তাকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে মনোজ কুমারের মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

কেডিএর প্রধান বৈষয়িক কর্মকর্তা জি এম মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারব না।’ এ বিষয়ে কেডিএ চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত সহকারী স্বপন কুমার দাস জানান, মনোজের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্তদের মাধ্যমে অবহিত হয়েছেন। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা টাকা ফেরত পাবেন কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত