সাধারণ আইনজীবী থেকে স্লোভাকিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ০৮:২১ পিএম

জনতার বিদ্রোহ থেকে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কেমন পরিবর্তন আসতে পারে, তার উদাহরণ এখন স্লোভাকিয়া। সাধারণ এক আইনজীবী হিসেবে পরিচিত জুজানা কাপুতোভাকে দেশটির মানুষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছে। অবাক করার বিষয় হল তিনি এমন একটি দলের প্রার্থী, স্লোভাকিয়ার পার্লামেন্টে যাদের কোনো আসনই ছিল না!

৪৫ বছর বয়সী কাপুতোভা স্লোভাকিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুধু ফলাফলের কারণে আমি খুশি নই, আমি দেখিয়ে দিয়েছি তথাকথিত রাজনীতিবিদ না হয়েও এটা সম্ভব। এটা সম্ভব সত্য বলতে পারার জন্য।’

কাপুতোভার প্রেসিডেন্ট হওয়ার গল্প হলিউডের সিনেমাকেও হার মানায়। স্লোভাকিয়ার রাজনীতিতে তিনি একদম নবীন। কয়েকটি দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দেশটির অনুসন্ধানী সাংবাদিক জন কুচিয়াককে তার বাগদত্তার সামনে খুন করা হয়। এই খুনের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন কাপুতোভা। পুরো দেশের মানুষকে এক করে ফেলেন।

এই মাসের শুরুতে কাপুতোভা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ হতাশ। তারা এখন পরিবর্তন চায়।’

image

ব্যক্তিগত জীবনে কাপুতোভা ডিভোর্সি। দুটি সন্তান আছে।

আইনজীবী কাপুতোভা অর্থলোভ ত্যাগ করে দীর্ঘ ১৪ বছর এক কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করেন। তার শহরে এক ব্যবসায়ী অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করতে চাইলে তিনি বাধা দেন। ১৪ বছরের আইনি লড়াই শেষে ওই মামলায় তিনি জয়লাভ করেন। সেই থেকে সাধারণ মানুষ তাকে ‘স্লোভাকিয়ার এরিন ব্রকোভিচ’ উপাধি দেয়।

এরিন ব্রকোভিচ হলিউডের একটি রাজনৈতিক কাহিনির চরিত্র। আমেরিকার একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই ছবিটি তৈরি করা হয়।

১৯৯৬ সালে জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশটির প্রতাপশালী কোম্পানি প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিকের বিরুদ্ধে মামলা করে কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায় করেন এরিন ব্রকোভিচ। তার এই আইনি লড়াই ওই সময় গোটা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত