৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের অসহযোগিতা, কারচুপি, জোরপূর্বক ভোট প্রদান, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়া ও প্রার্থীদের নাজেহাল করার অভিযোগে ৭ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন।
রবিবার দুপুর আড়াইটায় পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
জানা যায়, ৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রূপগঞ্জে সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচন চলছিল। দুপুর ১২টা পর্যন্ত গড়ে ৮ শতাংশের মতো ভোট সংগ্রহ হয়।
ভোটারদের অনাগ্রহের কারণে দুপুর ১২টার পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের লোকজন জোর করে সিল মারছিলেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এছাড়াও কেন্দ্র থেকে প্রার্থীদের এজেন্ট মারধর করে বের করে দেওয়া বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেজ বলেন, সকালে সুষ্ঠু ভোটের ড্যামী দেখিয়ে দুপুরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে একযোগে ব্যাপক হারে সিল মেরে নেয় মন্ত্রী সমর্থিত প্যানেল। এ সময় প্রার্থীদেরও নাজেহাল করেন সরকারি দলের লোকজন। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি।
এ কারণে প্রতিপক্ষের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাবিবুল কাদির তমাল, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবুর রহমান হারেজ, মোতাহার হোসেন নাদিম, অ্যাডভোকেট স্বপন ভূইয়া, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার চম্পা, অ্যাডভোকেট শায়লা তাহসীন সিঁথি ও হ্যাপী আক্তার দুপুর আড়াইটায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘুরে দেখা গেছে সকালে কোন কেন্দ্রেই লোকজনের উপস্থিতি নজরে পরেনি। বেলা ১১টায় দিকে মুশুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ নম্বর বুথে ভোট পরেনি একটিও। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভাড়া করা লোক ছিল প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়ানোর জন্য।
এসময় ব্যালটগুলো খালি থাকলেও দুপুরের পর হঠাৎ করেই ব্যালট বাক্স ভরে উঠে গায়েবি ভোটে। এসব কারণে সরকারি দল সমর্থিত চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চশমা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাস প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া সকল স্বতন্ত্র প্রার্থী পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেন।
এদিকে জোর করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে দুপুর ১২টার দিকে গন্ধর্বপুর ভোট কেন্দ্রে ১ ঘণ্টা বন্ধ রাখা যায়। কাঞ্চন কেন্দুয়াপাড়া বিদ্যালয়ে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া গত শনিবার রাতে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে হাটাব আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়।
