প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছাড়াই সারা দেশে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার ১০টি বোর্ডে মোট ১৪ হাজার ৯৮৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অসদুপায় অবলম্বন করায় ২৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অন্যবারের মতোই এবারও অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার আগে থেকেই প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে আসছিল বেশ কয়েকটি প্রতারক চক্র। শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে তৎপরতা এবং অসাধু চক্রের ওপর নজরদারির কারণে ফাঁস রোধ করা গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জিয়াউল হক। তবে প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি নজরে পড়ার মতো বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গতকাল রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া নজরদারি করছে। কেউ পার পাবে না। সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার মতোই এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে। নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে।’ পরীক্ষাকালীন কোচিং সেন্টার বন্ধ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোচিং সেন্টারের সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন, তাদের কারণেই সব কোচিং সেন্টার বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’
এবার ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত। এইচএসসির প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, প্রথম দিন ঢাকা বোর্ডে মোট ৩ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল, অসদুপায় অবলম্বন করায় একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে অনুপস্থিত ৮৫১ জন, বহিষ্কার একজন। যশোর বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ১৫৬ জন, বহিষ্কার একজন। চট্টগ্রাম বোর্ডে অনুপস্থিত ৯৮৩ জন, বহিষ্কার একজন। রাজশাহী বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ৪৪৬ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১৯ জন, বরিশাল বোর্ডে ৮০৩ জন ও দিনাজপুর বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ১৬২ জন। এই বোর্ডগুলোতে বহিষ্কার হয়নি কেউ। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির সংখ্যা ২ হাজার ৬১৪ জন, বহিষ্কার একজন। কারিগরি বোর্ডে অনুপস্থিত ২ হাজার ২১৪ জন ও বহিষ্কার করা হয় ২২ শিক্ষার্থীকে।
পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে লিখিত পরীক্ষা। ১২ থেকে ২১ মের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ মে পর্যন্ত। ১৪ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হবে। পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।
