নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ায় এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাধা দিতে গেলে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে যুবলীগ নেতার পেটে ছুরি মেরে জখম করেছে হামলাকারীরা। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রবিবার রাত ৮টার দিকে সাদিপুর ইউনিয়নের বরাব গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের অভিযোগ, বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের কালামের সমর্থক জাতীয় পার্টির নেতা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। তবে রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গত রবিবার সাদিপুরের বরাব কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে স্থানীয় সাদিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও জাতীয় পার্টির নেতা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় মতিউরের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল জাকির বাধা দিলে তার পেটে ছুরি মেরে জখম করে হামলাকারীরা। একই সময় বাড়ির পাশে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে আমির হোসেন, ইমরান, শাহিনসহ চার নৌকার সমর্থককে পিটিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা মোবাইল ডিউটিরত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমরা নৌকার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনকে ভোট দিয়েছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের কালামের ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক জাতীয় পার্টির নেতা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। সে আমাদেরকে ঘোড়া প্রতিকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। নৌকায় ভোট দেওয়ায় রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পাগলা সিরাজ, মাহামুদ আলী, আবদুর রব, ওমর আলী, মিলন, শামীমসহ অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। কর্মীরা ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।’
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
