এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের দ্বন্দ্বে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও তার স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরিফ জানান, এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন ওই নারীর স্বামী। তাদের মধ্যে ‘মূল হোতা’ ইউসুফ মাঝি ও আবুল বাসারকে গ্রেপ্তার ভোটের দ্বন্দ্বে সুবর্ণচরে ফের ‘দলবদ্ধ ধর্ষণ’ গ্রেপ্তার ২ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ওই নারী ও তার স্বামীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মহিউদ্দিন আজিম জানান, গত রবিবার রাতে ভর্তি হওয়া চরজব্বার ইউনিয়নের উত্তর বাগগ্যা গ্রামের ওই নারীকে (৩৫) গাইনি ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে ওই নারী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ও তার স্বামী সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজউদ্দিনের (চশমা) সমর্থক হিসেবে কাজ করেন।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ চৌধুরী বাহারের (তালা) সমর্থক ইউসুফ মাঝি ও তাদের লোকজন ভোটের আগের দিন রাতে বাহারকে ভোট না দিলে ভোটকেন্দ্রে যেতে বারণ করে। এরপর রবিবার ভোট দিয়ে কেন্দ্রের বাইরে এলে ইউসুফ মাঝি ও তার লোকজন তাকে রাতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
ছয় সন্তানের এই জননী আরও জানান, এরপর সন্ধ্যায় তিনি ও তার স্বামী মোটরসাইকেলে করে বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ইউসুফ মাঝির নেতৃত্বে বেছু মাঝি, আবুল বাসার, ফজলুল হক, হেলাল উদ্দিন, রুবেল, আরমান, জাহানসহ ১০-১২ জন রুহুল আমিনের মাছের খামারের কাছে তাদের পথ রোধ করে। তার স্বামীকে মারধর করে আটকে রেখে বেছু মাঝি, বজলু ও আবুল বাসার তাকে অস্ত্রের মুখে পাশে রুহুল আমিনের খামারের কলাবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার স্বামীর চিৎকারে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে রাতেই হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যা জানান, ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এদিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসা গতকাল বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে ভোটের পর রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। সে ঘটনায় এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা রুহুল আমিনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
