মোদির অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণের ইশতেহার কংগ্রেসের

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৫৫ এএম

দি ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গতকাল মঙ্গলবার আসন্ন লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে ইশতেহার প্রকাশ করেছে। পার্টির প্রধান রাহুল গান্ধীর এবারের ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোই জায়গা পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এসব অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে গত কয়েক বছরে মোদি সরকার বেশ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নির্বাচন যতই সামনে আসছে, ততই চাকরি ক্ষেত্রের ঘাটতি, প্রান্তিক দরিদ্রতা, কৃষকদের অসন্তোষ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস এবং নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো সামনে আসছে। এ ছাড়া নিত্যব্যবহার্য পণ্যের ওপর রীতিবহির্ভূত করারোপ এবং আধার কার্ডের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসছে।

কংগ্রেস এসব প্রশ্নবিদ্ধ ইস্যুকে সামনে এনে ইশতেহার দিতে কার্পণ্য করেনি। দশটির ইশতেহারে ভোটারদের আকর্ষণ করতে এসব ইস্যুর পাশাপাশি দেশের নারীদের জন্য এবং পরিবেশ সুরক্ষায়            ব্যাপক কর্মপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে ভারতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিসের (এনএসএসও) পরিসংখ্যান মতে, ভারতে গত ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সংকট চলছে, যা প্রায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অবশ্য মোদি সরকার এমন দাবি অস্বীকার করেছে এবং এই পরিসংখ্যানকে স্রেফ খসড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসের ইশতেহারে ‘কর্মসংস্থান বিপ্লবের’ কথা বলা হয়েছে। দলটি ক্ষমতায় আসলে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

গত চার বছরে ভারতে বেশ কয়েকবার কৃষক বিদ্রোহ হয়েছে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং ঋণ সংকটের কারণে। কৃষিঋণ পরিণত হয়েছে বাজে ঋণে, যদিও এই কৃষিঋণ ইস্যুকেই নির্বাচনী ইশতেহারের কেন্দ্রে নিয়েছিল বিজেপি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আটটি রাজ্য ৮ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন কৃষিঋণ ঘোষণা করে। এ ছাড়া মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশে ৭০ হাজার কোটি রুপির কৃষি ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই ভর্তুকি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে।

কংগ্রেসের ইশতেহারে কৃষকদের জন্য প্রতি বছর পৃথক বাজেট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত সপ্তাহে রাহুল গান্ধী ‘নিত্য আয় যোজনা’ শীর্ষক স্কিম চালুর ঘোষণা দেন। এই স্কিমের আওতায় প্রতি বছর দেশের ২০ শতাংশ দরিদ্রকে ৭২ হাজার রুপি করে দেওয়া হবে।

ইশতেহারে ‘ওয়ান ন্যাশন ওয়ান ট্যাক্স’ বিষয়টি আনা হয়েছে। এর আওতায় পণ্যের ওপর চার ধাপে আরোপিত কর বাতিলের প্রতিশ্রুতি করা হয়। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির ইশতেহারে বলা হয়, ‘পর্যায়ক্রমে সহজ’ করে একটি করের আওতায় নতুন কর ব্যবস্থা ধার্য করা হবে। ব্যক্তির তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে আধার কার্ড ব্যবহার ইস্যুতে এরই মধ্যে ভারতের মধ্যবিত্তদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। কংগ্রেস তাদের ইশতেহারে বলছে, তারা তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিতে আইন পাস করবে যাতে আধার কার্ডের ব্যবহার সীমিত করা যায়। প্রয়োজনে আধার আইন করা হবে এমন কথাও বলা হয়।

কংগ্রেসকে নির্বাচিত করলে সংসদে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও করা হয়। ইলেকটোরাল বন্ড ব্যবস্থার বিলোপ করে নির্বাচনে অর্থায়নের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে ইশতেহারে বলা হয়।

রাহুল গান্ধী নারীদের জন্য লোকসভা এবং বিধান সভায় উইম্যানস রিজারভেশন বিল আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া চাকরিক্ষেত্রে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা বরাদ্দের কথাও বলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত