সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গামছা এখন গা মোছাতেই নয়, জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রায়হান রহমান
আধুনিকতার মোড়কে পোশাকে পরিবর্তন এলেও কদর কমেনি গামছার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গামছায় এসেছে নতুনত্ব, সঙ্গে যোগ হয়েছে বৈচিত্র্য। একসময় গামছা ব্যবহার হতো, গোসল শেষে গা মুছতে ও মেয়েদের চুল ঝাড়তে। এখন গামছা পোশাকেও পরিণত হয়েছে। আর গামছা ব্যবহারের ধুম লেগে যায় এই গরমেই। মণিপুরি, সাঁওতাল ও চাকমা আদিবাসী সম্প্রদায় এসব গামছা তৈরি করে থাকে। তবে দেশের সেরা গামছা তৈরি হয় নওগাঁর রানীনগরের তাঁতিপাড়ায়। এছাড়াও খুলনার ফুলতলা আর ঝালকাঠির বাসন্ডায় তৈরি গামছার চাহিদাও রয়েছে।
নানা রকম ব্যবহার : সাধারণত গামছার আকৃতি যদি চার হাত বাই পৌনে দুই হাত হয়, তবে একে বড় গামছা বলে। এক্ষেত্রে গামছার দৈর্ঘ্যরে দিকটিকে বলা হয় টানা, আর প্রস্থের দিকটিকে পোড়েন। এক একটি গামছা তৈরিতে কম করে হলেও ৩৫ মিনিট লাগে। অনেকেই আবার গামছা দিয়ে তৈরি করছে নিজের পরিধেয়। ফলে বৈশাখের ফ্যাশনে গামছা অন্যতম অনুষঙ্গ। বিভিন্ন রঙের চেক প্যাটার্নের গামছা দিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে শাড়ি, ফতুয়া, টপস এমনকি পাঞ্জাবিও। এর নেপথ্য কারণ হলো, গামছার কাপড় অনেক নরম, পাতলা ও পানি শোষণে সহায়ক। গরমে বেশ আরামদায়কও বটে। ফ্যাশন হাউসগুলোতেও গামছা দিয়ে নানা ধরনের পোশাক দেখা যায়। গামছা কম্বিনেশনে পাঞ্জাবি, প্যান্ট, শার্ট ও ফতুয়াতেও আনা হয় নতুনত্ব। আবার কোথাও কোথাও গামছা ফ্যাশনের দুনিয়া ছাড়িয়ে চলে গেছে জুয়েলারি বক্স, কপালের টিপ,মাথার ব্যান্ড ও ফিতার মধ্যে। ঘরের লাম্পশেড, কুইল্ট, ডাইনিং টেবিলের রানার, প্লেসমেট, টিস্যু বক্স, কুশন কভার ও জানালার পর্দাও তৈরি হচ্ছে গামছা দিয়ে। শুধু কি তাই? গামছা কেটে বানানো হয় জুতা, গলার মালা, কানের দুল, চুড়ি, ফেন্সি ব্যাগ।

কোথায় পাবেন : গামছা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস এখন পাওয়া যায় সর্বত্রই। বিশেষ করে রাজধানীর ফ্যাশন হাউসগুলোতে হরহামেশাই পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও আসাদ গেট, নিউ মার্কেট, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গায় মিলবে গামছা সামগ্রী। অনলাইন বিক্রি করে এসব। তাই ঘরে বসেও কিনতে পারবেন।
দরদাম : দোকান ভেদে গামছা দিয়ে তৈরি সামগ্রীর দামে পার্থক্য থাকবে। একটি গামছার দাম হয় ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গামছার তৈরি শাড়ি ১০০০-৩০০০ টাকা, সালোয়ার-কামিজ ১৩০০-২৮০০ টাকা, ফতুয়া বা টপস মিলবে ৬০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা মধ্যে। এছাড়াও জানালার পর্দা ৬০০-১৩০০, বিভিন্ন জুয়েলারি ২০০-১০০০, কুশন কভার ৪০০-৮০০, বিছানার চাদর কিনতে খরচ করতে হবে ৮০০-১৫০০ টাকা।
ছবি : পিঁড়ি কথনের ফেইসবুক পেজ থেকে নেওয়া
