চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে এমপিরা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১৩ এএম

চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসা (ব্রেক্সিট) ঠেকাতে একটি প্রস্তাব মাত্র ১ ভোট বেশি পেয়ে পাস হয়েছে পার্লামেন্টে। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া পেছানোয় প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মেকে বাধ্য করতে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে নতুন প্রস্তাবটি উত্থাপনে নেতৃত্ব দেন লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) ইভেত কুপার। এটি এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে বিবেচনার জন্য যাবে। একে আইন করতে হলে উচ্চকক্ষের অনুমোদন দরকার হবে। তবে সময় বাড়ানোর চূড়ান্ত ভার ইইউর হাতে।

বিবিসির খবরে জানানো হয়, ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা দূর করতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ও বিরোধী লেবার পার্টির আলোচনার মধ্যেই প্রস্তাব পাস হলো। এর আগে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ও লেবার নেতা জেরেমি করবিনের মধ্যকার আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন অনেকে। তবে দুই দলের এমপিরা এ নিয়ে সমালোচনাও করেছেন।

ব্রেক্সিটমন্ত্রী স্টিফেন বারক্লে এমপিদের উদ্দেশে বলেন, তিনি আশা করছেন, সাংবিধানিক ত্রুটি নিয়ে তড়িঘড়ি করে পাস হওয়া বিলটি খুঁটিয়ে দেখবে হাউস অব লর্ডস। তিনি আরও বলেন, মে মাসে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় নির্বাচনে যুক্তরাজ্য যে অংশ নেবে না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। আর যুক্তরাজ্য যদি সত্যিই তা করে, তাহলে সেটি সীমাহীন ক্ষতি ডেকে আনবে।

এদিকে চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার ফিলিপ হ্যামন্ড বলেন, ব্রেক্সিট লম্বা সময় ধরে পেছানোর বিষয়ে ব্রাসেলসকে সম্মত করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত কোনো চুক্তি অনুমোদনে জনগণের ভোট ‘যথার্থ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে অনুষ্ঠানে বলেন, জনগণের ভোটের কড়া বিরোধী তিনি। হ্যানকক আরও বলেন, তিনি ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত দেখতে চান না।    

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ইভেত কুপারের প্রস্তাবটি ৩১৩ ভোটে পাস হয়। এর বিপরীতে ভোট পড়ে ৩১২টি। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী ইইউকে ৫০ অনুচ্ছেদ সম্প্রসারণ করার কথা বলতে বাধ্য হবেন। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় কত দেরি হবে, তা ঠিক করার ক্ষমতা পার্লামেন্টের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে প্রস্তাবে।

মাসের পরিবর্তে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় হাউস অব কমন্সের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির ব্রেক্সিটপন্থিরা। তাদের একজন মার্ক ফ্রাঁসোয়া বলেন, বিলের ওপর বিতর্ক সুবিবেচনাপূর্ণ ছিল না। এটি ছিল সাংবিধানিক জবরদস্তি।

এদিকে বিলটির ক্ষমতা কমাতে সরকারের একটি প্রচেষ্টা ১৮০ ভোটে পরাজিত হয়। এটি যুক্তরাজ্যের আধুনিক সময়ে ক্ষমতাসীন কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হার।

হাউস অব কমন্সের ভোটের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের নির্ধারিত সময়সীমা বাড়াতে এ বিল মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করবে। আগামী ১২ এপ্রিল ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত