বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার ‘সাজ’ (চিনি গলিয়ে খেলনা বাতাসা) কারিগররা ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। পহেলা বৈশাখের পর থেকে মাসজুড়ে বসবে বৈশাখী মেলা। আর শুধু পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মানিকগঞ্জে অন্তত শতাধিক স্থানে বসবে বৈশাখঅ মেলা। এ সাজ মানিকগঞ্জসহ আশপাশের অন্তত ১০টি উপজেলায় সরবরাহ হচ্ছে। তাই এ সাজ কারিগরদের কথা বলার সময় নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাজ তৈরি করছেন তারা। আর এ সাজ তৈরি করেই সংসার চালাচ্ছেন জেলার সাটুরিয়া উপজেলার কয়েক পরিবার।
সাটুরিয়ার বালিয়াটীর ভাটারা গ্রামের কয়েক বণিক পরিবার প্রায় দেড়শ বছর ধরে বিন্নির সাজ তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন। গ্রাম কিংবা মেলার মধ্যে বিন্নির সঙ্গে সাজ যেমন বড় বাতাসা, ঘোড়া, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকা প্রয়োজন পড়ে। আর এ সাজ শুধুমাত্র জেলার একটি গ্রামেই তৈরি করে থাকে, সেটি হচ্ছে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটীর ভাটারা বণিকপাড়ায়। এ বালিয়াাটীর সাজ মানিকগঞ্জ ছাড়াও টাঙ্গাইল ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।
দিলিপ বণিক বলেন, প্রথমে বিশেষভাবে তৈরি করা পাতিলে চিনি জ্বাল করা হয়। চিনি গলে গেলে সে গরম চিনির পানি ঘোড়া, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকার কাঠের ফর্মায় (ছাঁচে) ঢালা হয়। মিনিট ১০ পরেই তা আবার ফ্রেম থেকে খুলে ফেলা হয়। আর তৈরি হয়ে যায় সাজ। আর কদমা বানাতে গেলে চিনির জাল করে আবার তা ঠা-া করে, বিশেষ ভাবে বড় রশির মতো তৈরি করা হয়, পড়ে তা চিকন সুতা দিয়ে ছোট ছোট আকারে কাটা হয়, তখন তৈরি হয়ে যায় কদমা। বৈশাখী মেলা উপলক্ষে প্রায় ৫ প্রকার সাজ তৈরি করা হচ্ছে।
