রাজশাহীতে একের পর এক বহুতল ভবন হলেও বেশিরভাগে অগ্নিনির্বাপক ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেই। ভবন নির্মাণের পর ফায়ার সার্ভিসের সনদ নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানেন না ভবনমালিকরা। ফলে মহানগরে বহুতল ভবনের কোনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সে বিষয়ে তথ্য নেই। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্র্তৃপক্ষ বলছে, সদর দপ্তরের নির্দেশনায় যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। শিগগির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হবে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, ভবন নির্মাণের তিন মাসের মধ্যে দুর্ঘটনা মোকাবিলার প্রস্তুতি আছে কি না সেই বিষয়ে একটি সনদপত্র নিতে হয়। বিধিমালা অমান্য ও মালিকদের অবহেলায় অনেক সময় তা নিতে লেগে যায় চার-পাঁচ বছর। আবার অনেক ভবনমালিক এই ছাড়পত্র নেওয়ার তোয়াক্কা করে না। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে নগরীর বেশিরভাগ ভবন। তবে রাজধানীর চকবাজার ও বনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে ফায়ার সার্ভিস। ছাড়পত্র না নেওয়া ভবনগুলোকে নোটিস দেওয়া হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ বলেন, ‘বহুতল ভবন নির্মাণের আগে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়। ভবন নির্মাণের পর তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সার্টিফিকেট নিতে হয়। ভবনে সব ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলা প্রস্তুতি থাকলে আমরা তা দিয়ে থাকি। কিন্তু অনেকেই এ ছাড়পত্রটা নিতে চায় না।’ তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প সহনশীলতা থেকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা সব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার কাজ শেষ হবে।’ কোনো ভবনের ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের সুবিধা, জরুরি নির্গমন, নির্গমন চিহ্ন, নিরাপত্তা লবি, ফায়ার ফাইটিং টিমসহ নানা বিষয় দেখা হয়। তারপর সেটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না নির্ধারণ করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, নগরীতে নতুনভাবে যে বহুতল ভবনগুলো হচ্ছে সেখানে অগ্নিনির্বাপণ বা উদ্ধার অভিযানের জন্য যন্ত্রপাতি; বিশেষ করে গাড়ি নেই। আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি, আশা করি অচিরেই এটি পেয়ে যাব।
