ফের গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে লিবিয়া

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ১০:১৯ পিএম

লিবিয়ার পক্ষত্যাগী জেনারেল খালিফা হাফতার তার সেনাবাহিনীকে রাজধানী ত্রিপোলি দখলের নির্দেশ দিয়েছেন। হাফতারের এমন ঘোষণার পর দেশটির আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট সরকার ত্রিপোলিতে বিশাল সংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

হাফতারের ঘোষণার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল জরুরি বৈঠকের ডাক দেয়। লিবিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতা এবং মুয়াম্মার গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ার সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) রাজধানী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। লিবিয়ার পশ্চিমের শহর জাইওয়া এবং মিসরাতায় জঙ্গিরা হাফতার বাহিনীকে প্রতিহত করতে এর মধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছে।

গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়া মূলত দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়। দেশটির পূর্বাঞ্চল ফিল্ড মার্শাল হাফতারকে এবং পশ্চিমাংশ জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, ‘জঙ্গিদের হুমকিতে লড়াই শুরু হলে লিবিয়া আবারও সংঘর্ষে ফিরে যাবে।’

গত বৃহস্পতিবার হাফতারের বাহিনী রাজধানী থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের ঘারিয়ান শহরের দখল নেয়। সেখান থেকে প্রচারিত এক অডিওবার্তায় এলএনএ এই দখলকে বিজয়ের প্রথম নিশানা হিসেবে আখ্যা দেয়।

২০১১ সালে ন্যাটোর হাতে গাদ্দাফির মৃত্যুর পর থেকেই তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া সংঘাতময় পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। জেনারেল হাফতারের সঙ্গে জোট বেঁধেছে গাদ্দাফিপন্থি অনেক উপদল। লিবিয়ায় পশ্চিমা বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই ওই উপদলগুলো লড়াই করছিল। কিন্তু হাফতারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা আবারও লিবিয়া দখলের স্বপ্ন দেখছে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বলা হচ্ছে, গাদ্দাফিপুত্র সাইফ হাফতারের এই অভ্যুত্থানের পেছনে রয়েছেন।

লিবিয়াভিত্তিক থিংকট্যাংক আনাস আল গোমাতি বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে ত্রিপোলিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। জাতিসংঘ সকল পক্ষকেই উত্তেজনা কমাতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে হাফতার জাতিসংঘের এই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বিশ্লেষকরা বলেন, হাফতার ত্রিপোলি দখলের ডাক দেওয়ার আগেই আঞ্চলিক উপদলগুলোর সমর্থন আদায় করেছে। অনেক ক্ষেত্রে হাফতার কিছু উপদলকে কিনে নিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত