নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেই আমরা ভয় পাবো সেটা ভাবার কারণ নাই। আমাদের নিয়ে খেইলেন না, খেলাইয়েন না। আমার লোকজন খারাপ হলে ছাড় দিব না। কিন্তু নেতাকর্মীকে যদি বিনা কারণে হয়রানি করেন, নারায়ণগঞ্জের মাটিতে চাড়া নাচায়া দিব। এক সেকেন্ড সময় দিব না। এর পরেও যদি খেলা হয়। আগামীতে ২৪ ঘণ্টা না মাত্র ৬ ঘণ্টার সময় দিব। আশা করি আর খেলা হবে না। খেলার আগেই খেলা শেষ হয়ে যাবে।
শনিবার বিকেলে শহরের ইসদাইরে বাংলা ভবন কমিউনিটি সেন্টারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে জরুরি কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।
‘নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী পরিবারকে ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ ব্যানারে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগরের সেক্রেটারি খোকন সাহা ও সহ সভাপতি চন্দন শীল জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
সেই সঙ্গে তারা অচিরেই এর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে কঠোর আন্দোলন সহ গণ পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দেন। ওই সময় সভাস্থলে হৈ চৈ শুরু হলে শামীম ওসমান দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে উত্তেজিত নেতা-কর্মীদের শান্ত করেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের নেতারা বলছেন, গণ পদত্যাগ করবে। কিন্তু আমি বলি এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নাই। মশা মারতে কামান লাগাতে পারবে না। আপনাদের এত টেনশন করার কারণ নাই। উত্তেজিত হবেন না। শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি নষ্ট করা যাবে না। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা কী নারায়ণগঞ্জের খোঁজ রাখেন না। খোঁজ রাখেন কি না সেটা টের পাবেন আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে। মনে রাখতে হবে সরকার আমাদের, প্রশাসন আমাদের। সুতরাং আমাদের হাত পা অনেক সময়ে বাধা থাকে। কেউ যদি মনে করেন চাঁদাবাজি করবেন, মামলা দিবেন, হয়রানি করবেন সেটা হবে না। আমাদের সিনিয়র নেতারা বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাবেন। আমি মনে করে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে কোন অনাচার চলবে না।
শামীম ওসমান বলেন, কয়লাতে খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আগুন জ্বললে কিন্তু নিভাতে পারবেন না। আমি শামীম ওসমানও তাদের সামলাতে পারবো না। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের লোকজন কিন্তু বিচ্ছু বিচ্ছু খেলতে অভ্যস্ত। আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি। অগ্নিগিরি দেখেছেন অগ্নিগিরির আগুন কিন্তু দেখেন নাই। নারায়ণগঞ্জে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হবে।
তিনি বলেন, আপনারা যা দেখছেন সেটা আসল না। পর্দার আড়ালে কিছু খেলা হয়। কেউ কেউ ভুলে সে খেলায় পা দেয়। হয়তো নারায়ণগঞ্জের মেহমানরা সেই খেলায় পা দিয়েছেন। আমি কারো নাম বলবো না। আমি তাদের গোনায় ধরি না। বাইরের লোকজনদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। আমার ঘরের লোকজনদের দোষ। আমাদের ভেতরেই খন্দকার মোশতাকদের অবস্থান। বাইরের মানুষের কোন দোষ নাই। আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেই আমরা ভয় পাবো সেটা ভাবার কারণ নাই। মনে রাখতে হবে আমরা এখনো বুড়ো হই নাই। আমাদের নিয়ে খেইলেন না, খেলাইয়েন না। আমরা এখনো জোয়ান আছি। মন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় জুয়ার মামলা দিবেন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। আমার আত্মীয়কে মদের মামলা দিবেন। এসব দিয়ে আমাকে কাবু করতে পারবেন না।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সামছুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সেক্রেটারী শওকত আলী, বন্দর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, জেলা কৃষক লীগের সেক্রেটারী ইব্রাহিম চেঙ্গিস, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ।
