যা বললেন দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রীর মা...

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:৩৪ পিএম

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করায় ফেনীর সোনাগাজীতে আগুন দিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থীর মা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন।

দগ্ধ শিক্ষার্থীর মা শিরিন আক্তার রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে ঘটনার পূর্বাপর বিস্তারিত তুলে ধরে এই শাস্তি দাবি করেন।

লিখিত বিবৃতিতে তিনি জানান, অধ্যক্ষ মাওলানা এএসএম সিরাজ উদ্দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে আলিম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহের কথা বলে তার মেয়েকে যৌন হেনস্তা করে। পরে থানায় আমরা মামলা দিলে অধ্যক্ষ আটক হলেও তার লোকজন তা তুলে নিতে চাপ দেয়।

মেয়েকে দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে শিরিন আক্তার বিবৃতিতে বলেন, ঘটনার দিন সকালে মাদ্রাসার ইংরেজির শিক্ষক আফসার উদ্দীন ফোন করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন।

এছাড়া তিনি জানান, অন্যদিনের মতো ছোট বোনকে এগিয়ে দিতে যাওয়া বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে ঘটনার দিন দারোয়ান মোস্তফা মাদ্রাসায় প্রবেশে বাধা দেন। অন্যদিন ছোট বোনকে পরীক্ষার সিটে বসিয়ে দিয়ে আসলেও, সেদিন নোমানকে মাদ্রাসায় প্রবেশে বাধা দিয়ে দারোয়ান মোস্তফা ডিউটিরত পুলিশকেও তাকে (নোমানকে) যেন ঢুকতে দেওয়া না হয়, তা বলে যান।

এই ঘটনায় নিকাব ও কালো চশমা পড়া পাঁচ ছাত্রীও জড়িত দাবি করে শিরিন আক্তার জানান, নিকাব পড়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী আমার মেয়েকে তার নিশাত নামে বান্ধবীকে মারধর করা হচ্ছে বলে দ্বিতীয় তলায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত হাত মোজা ও চোখে কালো চশমা পরিহিত ৪ জন মেয়ে আমার মেয়েকে ঘিরে ধরে অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে বলে। তিনি অভিযোগ করেন, আমার মেয়ে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে তারা আমার মেয়ের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এএসএম সিরাজ উদ্দৌলা ইতিপূর্বে দুর্নীতি ও বহু অপকর্ম করলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ও মাদ্রাসা কমিটির কিছু ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় বেঁচে যান বলে অভিযোগ করে শিরিন আক্তার লিখিত বিবৃতিতে জানান, সিরাজ উদ্দৌলা এর আগে চেক জালিয়াতির মামলায় কারাভোগ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত