উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব শেষে ফেরার পথে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে হতাহতের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে পাহাড়ে যেকোনো নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।’ গতকাল রবিবার দুপুরে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ মাঠে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভার আগে তিনি বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহতদের স্বজন ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে এবং গুরুতর আহতদের ১ লাখ ও বাকি আহতদের
৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।
সহায়তা প্রদানকালে সিইসি বলেন, ‘বাঘাইছড়িতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’ এ সময় তিনি পাহাড়ি এলাকার সন্ত্রাসীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানান। নুরুল হুদা বলেন, ‘সন্ত্রাসের মাধ্যমে কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতসহ যে কোনো ধরনের সংঘাত লাশের স্তূপ বৃদ্ধি করে। একটি হত্যা দুটি প্রতিহত্যা সৃষ্টি করে, চারটি হত্যা আটটি প্রতিহত্যা সৃষ্টি করে।’ এর আগে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জিওসি মেজর জেনারেল এস এস মতিউর রহমান, চট্টগ্রাম পুলিশের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য ১৮ মার্চ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সাতজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। নিহতরা হলেনÑ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও শিক্ষক মো. আমির হোসেন, পোলিং কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষক আবু তৈয়ব, আনসার-ভিডিপি সদস্য আল আমিন, বিলকিস আক্তার, জাহানারা বেগম ও মিহির কান্তি দত্ত এবং অপর একজন মন্টু চাকমা।
