রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে গঠিত বাস রুট র্যাশনালাইজেশন বিষয়ে গঠিত কমিটি তাদের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। সাতটি বিশেষ দিক চিহ্নিত করে এ কমিটি এরই মধ্যে বাস রুট র্যাশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার জন্য তাদের এ পরিকল্পনাটি যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। সেখানে ঢাকায় নতুন করে বাস রুটের পারমিট বন্ধ রাখা, ২২টি রুটের প্রকৃতি যাচাই, বাস ডিপো ও টার্মিনাল স্থানান্তর, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ, বাস মালিক সমিতির তথ্য যাচাই করা, নিয়ন্ত্রণকারী কর্র্তৃপক্ষ গঠন ও তিনটি এলাকায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করার মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
গত ২৮ মার্চ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষের
(ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক ও বাস রুট র্যাশনালাইজেশন কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার রাকিবুল রহমান স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে একটি চিঠি দিয়ে এসব অগ্রগতির কথা জানান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক ও ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালককে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তফা কামাল গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাস রুট র্যাশনালাইজেশনের কাজটি দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে ৭টি পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে দেওয়া পত্রে বলা হয়, কমিটি ডিএনসিসির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের গৃহীত পদক্ষেপগুলো আমলে নিয়ে ২২টি রুটের প্রকৃতি প্রাথমিকভাবে যাচাই করেছে। নতুন করে ঢাকা মহানগরীতে বাস রুটের পারমিট দেওয়া বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে আবেদনের মাধ্যমে এ কমিটির কাছে পাঠানোর নির্দশনা দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) বাস ডিপো ও টার্মিনালের স্থান সংস্থানের জন্য রাজউকের প্রতিনিধি এবং কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্যসহ ডিটিসিএর কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থান হিসেবে কাঁচপুর, ঝিলমিল, হেমায়েতপুর, গাজীপুর ও পূর্বাচলসহ বেশ কয়েকটি স্থান পরির্দশন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে (যেমন: দিল্লি, লন্ডন, সিঙ্গাপুর, ও সিউল) বাস পরিচালনার দায়িত্বরত কর্র্তৃপক্ষ এবং বাস সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির রূপরেখা পর্যালোচনা করে ৬টি বাস কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্র্তৃপক্ষের একটি রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকায় চলাচলরত বাস নিয়ে মালিক সমিতির তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হয়েছে।
এ ছাড়া টার্মিনাল বা ডিপোর স্থান নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ, বাস মালিক ও অপারেটরদের কোম্পানি গঠন, নিয়ন্ত্রণকারী কর্র্তৃপক্ষ গঠন, প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রস্তুত, মুনাফা ভাগাভাগি পদ্ধতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাসের মডেল ও ডিজাইন নির্ধারণ, পুরাতন বাস অপসারণের জন্য ক্ষতিপূরণ, বাসমালিকদের স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে।
পত্র থেকে আরও জানা যায়, এরই মধ্যে ধানমণ্ডি-নিউমার্কেট-আজিমপুর এলাকায় বিআরটিসি বাসের মাধ্যমে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাস স্টপ থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত বিআরটিসি ডাবল ডেকার বাস সার্ভিস চালু করা হয়। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে বিআরটিসি বাস দিয়ে উত্তরা এলাকায় চক্রাকার বাস চালু করা হবে।
