ঢাকা সিটির মতো রাজউক, ওয়াসা, তিতাসের মতো রাজধানীর সরকারি সেবা সংস্থাগুলোকেও উত্তর-দক্ষিণে বিভাজনের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।
সোমবার গুলিস্তানের নগর ভবনে ডিএসসিসিতে নবসংযুক্ত ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মেয়র এমন মন্তব্য করেন। এ সময় নতুন কাউন্সিলরদের সঙ্গে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাঈদ খোকন বলেন, ‘রাজধানীতে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, সে হারে সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সিটিকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভাজন করেছেন যাতে শহরের সব মানুষের নগর সেবা নিশ্চিত করা যায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ওয়াসা, ডেসা, রাজউক, তিতাসসহ সেবামূলক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে এবং সেবার পরিধি বৃদ্ধিতে উত্তর ও দক্ষিণে বিভাজন করা যায় কি না সেটা ভাবার সময় এসেছে।’
মেয়র বলেন, ‘এটা নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনার বিষয় রয়েছে। ঢাকা সিটি ভাগ হওয়াতে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা জনগণের দোরগোড়ায় যেতে পারছি। সংস্থাগুলো বিভাজিত হলেও সেবার মান বৃদ্ধি পেতে পারে। সুতরাং এটা নিয়ে নাগরিক সমাজ, জনপ্রতিনিধি, সংস্থাগুলোর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে।’
করপোরেশনের জনবল সংকট নিয়ে মেয়র বলেন, ঢাকা বিভাজনের সুফল জনগণ পাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিভাজনের আট বছর পরেও দুই সিটির জনবল কাঠামো এখনো অনুমোদন লাভ করেনি। দক্ষিণ সিটিতে আমরা মাত্র ৪০ শতাংশ জনবল নিয়ে কাজ করছি। উত্তর সিটির অবস্থাও একই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আমাদের উন্নয়নের পথে বড় ধরনের বাধা।
পুরান ঢাকার জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক ভবন নির্মাণ করে মালিকদের ফ্ল্যাট দেওয়ার গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে এক প্রশ্নে জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে আগে পুরান ঢাকার মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আস্থা অর্জন না করে যদি আমরা কোনো প্রকল্প শুরু করতে যাই সেখানে একটা বড় ধরনের সমস্যা এবং জটিলতার তৈরি হতে পারে। জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এটা নিশ্চিত করার পর প্রকল্প শুরু করা উচিত।
নতুন সংযুক্ত ১৮ ওয়ার্ডকে মডেল শহর হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা নতুন ওয়ার্ডগুলোর রাস্তাগুলোকে সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করে চলাচলের উপযোগী করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। দ্বিতীয় পর্যায়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে এই ওয়ার্ডগুলোকে গড়ে তোলা।’
তবে পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে সময় লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের যে গুলশান আমরা দেখছি, এটি হয়েছে প্রায় ৭০ বছরে। উত্তরা হয়েছে প্রায় ৩০-৪০ বছরে। নতুন ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নেও সময় লাগবে।’
আইডব্লিউএম নামে একটি সরকারি সংস্থা এই এলাকার ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে বলে জানান মেয়র।
