বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিবারের মতো ঝড়বৃষ্টির মাঝেই বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন অনুষঙ্গ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই! বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদযাপনে মঙ্গল শোভাযাত্রার দায়িত্বে রয়েছে চারুকলা অনুষদের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অনুষদের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং চারুশিল্পীরাও যোগ দিয়েছে। গত ১৯ মার্চ ছবি এঁকে প্রস্তুতিকার্যের উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। গত রবিবার চারুকলায় সরেজমিনে দেখা যায়, বড় প্রতিকৃতিগুলোর কাঠামো নির্মাণকাজ শেষ। এরপর রঙিন কাগজে মোড়ানো ও সর্বশেষ তুলির পরশে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এবারও মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য নির্মিত হচ্ছে বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন প্রতিকৃতি।
সংগীতের মূর্ছনা ও আড্ডার মধ্য দিয়েই চলছে কাজ। কেউ হাঁড়ি-পাতিলের ওপর কারুকার্য তৈরি করছে। কেউ ব্যস্ত মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহার্য বেতের তৈরি বিভিন্ন প্রতিকৃতি অঙ্কনে। পাশেই কয়েকজন মাটির তৈরি রাজা-রানী কিংবা সিংহের মুখোশে লাগাচ্ছে রঙিন কাগজ। শিক্ষার্থীরা জানাল, শোভাযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য জলরং, সরাচিত্র, মুখোশ, পুতুল, পাখিসহ নানা জিনিস তৈরি ও বিক্রি করা হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এসব জিনিস সংগ্রহ করছে বাইরের বিভিন্ন ক্রেতারাও।
