ফেইসবুক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে রাজধানীর শাহবাগে এসে ধর্ষণের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরীকে ফের এক কনস্টেবলের ধর্ষণের ঘটনায় আরও দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার কনস্টেবল বাদল হোসেনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তার সহযোগী দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সুব্রত বিশ্বাস।
গতকাল মঙ্গলবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রররক্ষা বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল বাদলকে আজ (গতকাল) তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। আর কোনো সহযোগী আছে কি না জানার চেষ্টা করছি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী যাত্রাবাড়ী এলাকার দনিয়ার যে বাসায় মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে, সেখানে একই বিভাগের আরও দুই পুলিশ সদস্য ছিল। ঘটনাস্থলে তাদের কী ধরনের ভূমিকা ছিল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসার দারোয়ান ও বাড়ির মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ গত ৩১ মার্চ দুপুরে জয় ঘোষ ওরফে অর্ক নামে এক ফেইসবুক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে রাজধানীর শাহবাগে ধর্ষণের শিকার হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরী (১৬)। মেয়েটির মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিওধারণ করে সেটিও নিয়ে যায় ওই প্রতারক। এ ঘটনায় সহায়তা চাইতে গেলে কনস্টেবল বাদল ওই কিশোরীকে দনিয়ার ছনটেকের একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠতলায় নিয়ে গিয়ে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণ করে। দুই ঘটনায় দুই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। ক্যামেরায় ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে জিম্মি করার অভিযোগে শাহবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা হয়। এরপর শাহবাগ থানা পুলিশ ১ মার্চ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত জয় ঘোষ ওরফে অর্ক, তার সহযোগী জামাল ও বাদল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
ওই কিশোরী দেশ রূপান্তরকে জানায়, দুই বছর আগে জয় ঘোষ নামে একজনের সঙ্গে তার ফেইসবুকে পরিচয় হয়। এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানে প্রথম দেখা হয়। এরপর ২৬ ডিসেম্বর আবার দেখা হলে তাকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে। এরপর সেই দৃশ্য বাবা-মায়ের কাছে প্রকাশ ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১৫ বার তাকে নিপীড়ন করে। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে সে ওই কিশোরীর বন্ধুদের কাছে মেসেজ পাঠায়, তার কাছে থাকা ধর্ষণের ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়ে হুমকি দেয়Ñ তার সঙ্গে দেখা করে ওই মোবাইল ফোন না নিলে সবার কাছে ভিডিও পাঠানো হবে। গত ৩১ মার্চ তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেও কিশোরীকে ধর্ষণ করে সন্ধ্যার দিকে গুলিস্তানে ফেলে রেখে যায়। তখন পুলিশ সদস্য বাদল হোসেন তাকে সহায়তার কথা বলে ধর্ষণ করে।
×
