ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসির) চারটি ওয়ার্ড ঘেঁষে বয়ে গেছে সুতিভোলা খাল। নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এর পানি দূষিত হয়ে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। খালপাড় দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও কোনো প্রাচীর না থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের অভাবে একসময়ের প্রয়োজনীয় খালটি এখন হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর ভোগান্তির কারণ। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে ঢাকা উত্তর সিটির ৩৮, ৩৯, ৪২ ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর দুঃখ-দুর্দশার এসব তথ্য জানা যায়।
ডিএনসিসির ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম বাছেক দেশ রূপান্তরকে জানান, উত্তর বাড্ডা থেকে খিলবাড়ীরটেক, পশ্চিম পদরদিয়া, সাঁতারকুল হয়ে বেরাইদ পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালের দৈর্ঘ্য প্রায় সাত কিলোমিটার। শুধু তার ওয়ার্ডেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করে। তিনি বলেন, ‘এ খাল দিয়ে পাশের চারটি ওয়ার্ডসহ ঢাকা উত্তরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা প্রবাহিত হয়। দুর্গন্ধে খালপাড়ে বসবাসরত মানুষ ও পথচারীদের নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।’ এক মাস আগে মেয়র আতিকুল ইসলাম এ খাল পরিদর্শন শেষে এর সংস্কার ও খালপাড়ে প্রাচীর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান এ কাউন্সিলর।
৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে খালপাড়ের ফার্মেসি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রায়ই খালে মোটরসাইকেল, রিকশা, সাইকেল নিচে পড়ে যায়। ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে কিছু কিছু জায়গায় রেলিং বসানো হলেও অধিকাংশ জায়গা উন্মুক্ত।’ খিলবাড়ীরটেক পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. হাশেম আলী বলেন, ‘এ খালের জন্য চলতে-ফিরতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ানোয় আশপাশের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।’
১৮ বছর ধরে খালপাড়ে বসবাস করছেন সাঁতারকুল এলাকার পশ্চিম পদরদিয়ার বাসিন্দা হাজি মহাব্বদ আলী। তিনি বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পুরো খালজুড়ে কোনো রেলিং নেই। সকাল-বিকেল বাচ্চারা স্কুল থেকে আসা-যাওয়া করে। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সরকার খাল করে দিলেও পথচারীদের সুবিধার কথা মাথায় রাখেনি।’ এই বাসিন্দা আরও বলেন, ‘রাত হলেই এখানে ছিনতাইকারী, চোর, নেশাগ্রস্ত মাদকসেবনকারীদের আনাগোনা বেড়ে যায়; যারা সুযোগ বুঝে পথচারীদের আটকিয়ে টাকাপয়সা গয়নাগাটি ছিনিয়ে নেয়।’ বাড্ডা থানায় এ নিয়ে কয়েকবার অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
