মুক্তিপণের জন্য অপহরণের পর রাজধানীর ডেমরার নুর-ই-মদিনা মাদ্রাসার ছাত্র মনিরুল ইসলামকে (৭) তারই এক শিক্ষক ও দুই সহযোগী মিলে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল হাদী ও তার ছাত্র আহাম্মদ সফি ওরফে তোহা জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. আকরামকেও গ্রেপ্তার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডেমরার ডগাইর নতুন পাড়ার সাইদুল হকের দুই মেয়ে ফাতেমা আক্তার (১২), মুন্নি আক্তার (৯) ও ছেলে মনির একই এলাকার নুর-ই-মদিনা মাদ্রাসায় পড়ত। প্রতিদিনের মতো গত রবিবার তিনজনই সকাল ৭টায় মাদ্রাসায় যায়। বেলা ১১টার দিকে মুন্নি বাসায় ফিরে তার বাবাকে জানায়, মনিরকে মাদ্রাসায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর সাইদুল তার স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে মাদ্রাসা এবং আশপাশে সম্ভাব্য সব জায়গায় ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন। পরে রাতে ডেমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সাইদুলকে ফোন করে মনিরের মুক্তির বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা ডেমরা থানার মসজিদুল-ই-আয়েশা জামে মসজিদের ভেতরে জানাজার খাটিয়ার নিচে রেখে আসতে বলা হয়। টাকা না দিলে ছেলের লাশ পাবেন বলেও হুমকি দেয় ওই ব্যক্তি।
এরপর ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে অভিযানের একপর্যায়ে গত সোমবার রাতে ওই মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলায় ওঠার সিঁড়ির চৌকিতে সিমেন্টের বস্তার ভেতরে রশি দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় শিশু মনিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, একই দিন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও মসজিদটির ইমাম হাদী এবং তোহাকে আটক করা হয়। তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, অধ্যক্ষ হাদী নিজের কক্ষেই শিশুটিকে আটকে রেখেছিলেন। কান্নাকাটি করায় গত সোমবার রাতে তাকে হত্যার পর লাশ মসজিদের একটি ফ্লোরে রেখে আসে তোহা ও আকরাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বংশালের মালিটোলা থেকে আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পাতলা তোয়ালে, দুটি সিমেন্টের বস্তা, দুটি কালো রঙের দড়ি, মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত মোবাইল সেট, মৃতদেহের পরনে থাকা গ্যাবার্ডিনের ফুল প্যান্ট ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়।
