কেটি ব্যুম্যানের দেখানো পথে কৃষ্ণবিবরের ছবি

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:০৩ এএম

প্রথমবারের মতো সারা দুনিয়া দেখেছে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণবিবরের ছবি। আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের ‘পরম দৈত্য’কে ছবি আকারে হাজির করেছেন ২৯ বছর বয়সী কম্পিউটার বিজ্ঞানী কেটি ব্যুম্যান। তার নেতৃত্বে তৈরি অ্যালগরিদম কাজে লাগিয়েই বিস্ময়কর এই চিত্র ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর চেয়ে ৩০ লাখ গুণ বড় ‘দৈত্য’কে ধরতে তিন বছর আগেই কেটি অ্যালগরিদম তৈরি শুরু করেছিলেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ এই কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরির কৃতিত্বের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। গত বুধবার ৫০ কোটি ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরের কৃষ্ণবিবরটির ছবি প্রকাশ করা হয়।

ঐতিহাসিক ওই মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে ব্যুম্যানকে তার ল্যাপটপের পর্দায় কৃষ্ণবিবরের ছবি প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তিন বছর আগেই এই নারী অ্যালগরিদম তৈরি শুরু করেন, যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পিএইচডি গবেষণা করছিলেন। সেখানে তিনি এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন। তার সহযোগিতায় ছিলেন এমআইটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারসহ কয়েকটি সংস্থার সদস্যরা। শিগগির ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (ক্যালটেক) সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দিচ্ছেন এই বিজ্ঞানী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটটি টেলিস্কোপের নেটওয়ার্ক- ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপে কৃষ্ণবিবরটি ধরা পড়ে। ড. ব্যুম্যান ও তার দল এমন একগুচ্ছ অ্যালগরিদম তৈরি করেন যা টেলিস্কোপিক উপাত্তকে ছবিতে রূপান্তরিত করেছে।

গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে অ্যালগরিদম হলো এমন একটি প্রক্রিয়া বা নির্দেশনা গুচ্ছ, যা ধাপে ধাপে কোনো সমস্যা সমাধান করে। কৃষ্ণবিবরের ছবি তোলার ক্ষেত্রে টেলিস্কোপে ধারণ করা উপাত্ত শত শত হার্ড ড্রাইভের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বোম্যানের পদ্ধতি অবিন্যস্ত উপাত্তকে যান্ত্রিকভাবে দৃশ্যমান ছবিতে রূপান্তর করে। এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে অ্যালগরিদমের ফল চারটি পৃথক টিম দ্বারা বিশ্লেষণ করা হয়। অ্যালগরিদমে সবার অবদান স্বীকার করে ব্যুম্যান বলেন, ‘জ্যোতির্বিদ, পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও প্রকৌশলীর সমন্বিত উদ্যোগে একসময়ের অসম্ভবকে অর্জনের চেষ্টা চালানো হয়।’

সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের কারও একার কাজ ছিল না। অনেক জায়গা থেকে আসা নানা ধরনের মানুষের প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।’ তার অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ধারণ করা ছবি প্রকাশের পরপরই এই বিজ্ঞানী বিশ্বজুড়ে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন। টুইটারেও তার নাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

মহাকাশে চার হাজার কোটি কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কৃষ্ণবিবরটি বিস্তৃত। পৃথিবীর চেয়ে ৩০ লাখ গুণ বড় এই মহাজাগতিক বস্তুকে বিজ্ঞানীরা ‘পরম দৈত্য’ আখ্যা দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত