সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল হোল শরণার্থী ক্যাম্পজুড়ে অসন্তোষ আর উত্তরহীন প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। শিবিরের মধ্যে থাকা জিহাদি গ্রুপ ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের স্ত্রী এবং সন্তানদের কী হবে তা কেউ জানে না। কোনো দেশের সরকার তাদের দায়িত্ব নিতে চাইছে না। ইসলামিক স্টেট ঘোষিত খেলাফতের বাসিন্দা হলেও আজ তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। উম্মে উসামা মরক্কো-বেলজিয়ান নারী। তিনি গত ছয় বছর ধরে ওই শরণার্থী শিবিরে আইএস নারী ও শিশুদের সহায়তা দিয়ে আসছেন। সাবেক এই নার্স জানান, ‘আমি নিজের ইচ্ছেতেই এমন কাজ করছি। বেলজিয়ামে আমি নেকাব পরতে পারি না। প্রত্যেক ধর্মেই কিছু সমস্যা থাকে। কিন্তু আমাদের ভালোটাই নিতে হয়।’ আল হোল শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। কথিত খিলাফত শেষ হয়ে যাওয়ার পর শিবিরটিতে শরণার্থীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ইসলামিক স্টেটের সর্বশেষ ঘাঁটি বাঘুজ দখল করে নিয়েছে কুর্দি বাহিনী। কুর্দিরা বেশ সময় নিয়ে বাঘুজ মুক্ত করেছে, তারা শহরটি থেকে শিশু ও নারীদের নির্বিঘেœ বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। শরণার্থী শিবিরের একজন বাসিন্দা জানান, ‘এক দিনে দুই হাজার মানুষ মারা গেছে। আইএস শরণার্থীদের তাবু এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা তাদের বলেছিলাম মানুষকে হত্যা না করে শুধু গাড়িগুলো জ্বালিয়ে দিতে, কিন্তু তারা তা করেনি।’ বাঘুজের এই ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী নূর। শরণার্থী শিবিরের রেড ক্রিসেন্টের একটি তাঁবুতে শয্যাশায়ী সে। মাত্র ছয় বছর বয়সী এই শিশুটিকে খুব কাছ থেকে মুখে গুলি করা হয়। আহত হওয়ার ১৫ দিন পর চিকিৎসা পায় সে। বিবিসি জানায়, বাঘুজ থেকে পালানোর সময় ১৬৯ জন শিশু মারা যায়।
আল হোলে এমন অনেক যুদ্ধাহত শিশু রয়েছে। এদের অনেকের মা আছে, আবার অনেকের কেউ নেই। নূরের অবশ্য মা আছেন, তিনি একজন তুর্কমেনিস্তান বংশোদ্ভূত। তার স্বামী আইএস যোদ্ধা, মারা গেছেন। বাবা অথবা মা ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধা হলেও শিশুরা কোনো পক্ষের নয়। তবু তাদের ভয়াবহ অমানবিক জীবন কাটাতে হচ্ছে। শিবিরটিতে বিদেশি নারীদের আলাদা করে রাখা হয়েছে। ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, মরক্কো, সোমালিয়া এবং অন্য দেশ থেকে আসা এই নারীদের কাঁটাতারের মধ্যে রাখা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, শরণার্থী শিবিরে স্থানীয়দের তুলনায় নির্যাতনের শিকারে হচ্ছে বেশি বিদেশি নারী-শিশুরা।
