ইটভাটার মাটিচাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১১:১১ পিএম

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মাটি চাপা পড়ে আবদুল হান্নান (৪৫) ও বাবু মন্ডল (৫০) নামে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শেখ ব্রিকস নামের ইটভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল হান্নান দামুড়হুদা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মৃত কালাচাঁদ মন্ডলের ছেলে ও বাবু মন্ডল নতুন বাস্তপুর গ্রামের মৃত লাল মন্ডলের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকালে ওই ইটভাটায় কাজ করছিলেন প্রায় অর্ধশত শ্রমিক। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইটভাটার স্তূপ করে রাখা মাটি ধসে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই দুই শ্রমিক। আহত হন তিনজন। স্থানীয়রা পরে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

এলাকার কয়েকজন জানান, ভাটাটির সরকারি অনুমোদন ছিল না। প্রভাব খাটিয়েই ভাটামালিক এটি চালিয়ে আসছিলেন। ফসলিজমিতে ইটভাটা নির্মাণ নিষিদ্ধ হলেও গায়ের জোরে ভাটাটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকেই ভাটামালিক বকুল মিয়া প্রভাব খাটিয়ে ভাটাটি অবৈধভাবে চালিয়ে আসছিলেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে ইটভাটার মালিক পলাতক। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস জানান, এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হাসানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু হেনা মো. জামাল শুভ, ওসি সুকুমার বিশ্বাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান।

অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ইটভাটাটি চালু ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন,  দু-এক দিনের মধ্যেই অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হাসান জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এরই মধ্যে শেখ ব্রিকসের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মিয়া জানান, নানা আইনি জটিলতার কারণে বেশ কয়েকটি ইটভাটা অনুমোদন না নিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে অনুমোদনের জন্য আবেদন করা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত