মাগুরার শ্রীপুরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার নামে জুয়ার আসর উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে হামলায় শিকার হয়েছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ চার জন।
হামলাকারীরা পুলিশকে সংবাদ দেওয়ার সন্দেহে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ ও তার ছোট ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতি বছর শ্রীপুর উপজেলার কুপুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয়ভাবে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। এবার মেলায় কাদিরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নেপচুন বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে জুয়ার আসর বসে। বিষয়টি নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির নজরে এলে এএসআই শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার রাতে জুয়ার কোর্ট উচ্ছেদ করতে গেলে ছাত্রলীগ নেতা নেপচুনের নেতৃত্বে স্থানীয় আট থেকে ১০ জন যুবক পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে লাঠির আঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা শরিফুল আহত হন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
পরে সেখানে উপস্থিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদকে পুলিশে জুয়ার কোর্টের খবর জানানোর সন্দেহে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় নেপচুন ও তার সমর্থকরা। এ সময় হামলা শিকার রুবেল মাহমুদকে রক্ষা করতে তার বাবা আইয়ুব হোসেন ও ছোট ভাই সোহেল রানা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করে নেপচুন সমর্থকরা। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থী সোহেল রানা জখম হন। পরে স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে দ্বারিয়াপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুবেল মাহমুদ বলেন, ‘নেপচুনের নেতৃত্বে সোহাগ, মন্নু, সুরুজসহ অন্তত ১০ জন আমার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এ সময় বাধা দেওয়ায় তারা আমার বাবা আইয়ুব হোসেন ও ছোট ভাইয়ের ওপরও হামলা করে। ছোট ভাই সোহেল রানাকে কুপিয়ে জখম করেছে আর লাঠির আঘাতে বাবার হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেছে।’
শ্রীপুর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, মেলায় জুয়ার কোর্ট পরিচালনাকারী নাজমুলকে পুলিশ আটক করে জুয়া আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।
