পরিকল্পনা চূড়ান্ত। ছক অনুযায়ী অস্ত্র সংগ্রহ আর লাশগুলো পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। নয়জন মানুষকে হত্যায় দুই কিশোরীর এমন রোমহর্ষক পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায় শেষ মুহূর্তে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এমন ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার অভিযোগে বুধবার ওই দুই কিশোরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোরী অ্যাভন পার্ক মিডল স্কুলের ছাত্রী। একজন শিক্ষক তাদের একটি ফোল্ডারে হত্যার বিস্তারিত পেয়ে গেলে দুজনকে আটক করা হয়।
আটটি নোটে তারা অস্ত্র সংগ্রহ, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা এবং নিহতদের মরদেহ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।
দুই কিশোরীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয় আদালতে শুনানির কথা রয়েছে।
এ দুজনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নয়জনকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অপহরণের ষড়যন্ত্রের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, ওই দুই ছাত্রী যখন ফোল্ডারটি দেখছিল, তখন তাদের আচরণ অস্বাভাবিক দেখতে পান শিক্ষক। এমনকি তাদের একজনকে বলতে শোনেন- “তারা যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে কিংবা এই পরিকল্পনা আগেই জেনে যায়, তাহলে আমি তাদেরকে বলব ‘এটা প্রাঙ্ক (ভয়ঙ্কর কিছু ঘটানোর অভিনয় করে হকচকিত করে দেওয়া)’।”
ওই শিক্ষক পরে ‘প্রাইভেট ইনফো’, ‘ডোন্ট ওপেন’ এবং ‘প্রজেক্ট ১১/৯’ নামের ফোন্ডারটি খুঁজে পান।
হাতে লিখিত ডকুমেন্টে কিভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করা হবে, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হবে এবং লাশগুলো পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে তার বিস্তারিত বর্ণনা ছিল।
এমনকি পুরো ঘটনা ঘটানোর সময় তারা কী ধরনের পোশাক পড়বে সেটারও বর্ণনা ছিল- ‘কোনো নখ দেখা যাবে না, কোনো চুল দেখা যাবে না’।
হাইল্যান্ডস কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র স্কট ড্রেসেল বলেন, “তারা যদি মনেও করে এটা কৌতুক, সেটা দেখার বিষয় না।”
“এ ধরনের কোনো কিছু কৌতুক হতে পারে না। মানুষ হত্যা করা নিয়ে আপনি কৌতুক করতে পারেন না” যোগ করেন তিনি।
