ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সফিকুল ইসলাম সুমন (২২) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ওই সীমান্ত থেকে বিএসএফ মাসুদ রানা (২০) নামে অন্য এক যুবককে আটক করে নিয়ে গেছে।
নিহত সুমন হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের সাফিরুল ইসলামের ছেলে। আটক মাসুদ ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের এনাদুলের ছেলে। তাকে ভারতের পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করেছে বলে জানান বিজিবি ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল সামিউন নবী।
সোমবার ভোরে ভোর ৪টার দিকে সফিকুল, মাসুদসহ কয়েকজন বাংলাদেশি সীমান্তের ৩৫৭ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে গরু আনার জন্য অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এ সময় ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বসতপুর বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে সুমন নিহত হন। তার লাশ সীমান্তে জিরো লাইনের এপারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে। এ সময় বিএসএফ হাতে আটক হয় মাসুদ রানা নামে অন্য একজন।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০বিজিবির পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়। দুপুর ১টায় সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দুই দেশের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। বিজিবির পক্ষে ছিলেন ঠাকুরগাঁও বিজিবির ৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সামিউন নবী এবং বিএসএফের পক্ষে ছিলেন ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচএই হিনজালাল সিমিত।
বৈঠকে সীমান্তে হত্যা বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। আইন অমান্য করলে তাদের হত্যা না করে আইনের আওতায় আনার উপর গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানানো হয়।
এ দিকে দুপুরে সীমান্ত এলাকা থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করে হরিপুর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঠাকুরগাঁও মর্গে প্রেরণ করে।
হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুস সবুর বলেন, ময়নাতদন্তের পর সুমনের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
