খুলনা রেলস্টেশনে নেই আর নেই

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৩৪ এএম

নানা সংকটে ধুঁকছে খুলনা আধুনিক রেলস্টেশন। জনবলের অভাবে ছয় টিকিট কাউন্টারের মধ্যে চালু আছে মাত্র দুটি। নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কথা থাকলেও তা আজও হয়নি। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ প্ল্যাটফরমে আলোর ব্যবস্থা আছে মাত্র আধা কিলোমিটারে। ঠিক সময় খোলা হয় না বিশ্রামাগার। টিকিট রুমে নেই পাখা। ট্রাফিকে ৮২ জনের বিপরীতে আছেন ৭৬ জন। রেলের নিরাপত্তার জন্য কোনো নতুন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হয়নি। প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে বাথরুমের ফিটিংসহ ছোট-বড় নানা রকম মালামাল। কর্র্তৃপক্ষ বলছে, জনবল নিয়োগ হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘স্টেশনে শুধু নেই আর নেই। জনবল নেই, রাতে আলো নেই, নিরাপত্তা প্রহরী নেই। স্টেশনের সামনে পার্কিংয়ের জায়গায় লোক নেই। এতে চরম যাত্রী হয়রানি হচ্ছে। ইজিবাইক, রিকশা এসে দাঁড়িয়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অনেক যাত্রী মালামাল নামাতে পারছেন না। যখন-তখন ট্রাক ঢুকে পড়ছে স্টেশনের মধ্যে।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বরে যাত্রা শুরু হয় এ রেলস্টেশনের। এখানে ছয়টি টিকিট কাউন্টারের মধ্যে বন্ধ চারটি। যেখানে জনবল প্রয়োজন ২০ জন, সেখানে আছে মাত্র সাতজন। নতুন স্টেশনে ২৬টি পয়েন্ট (যেখান থেকে গাড়ির দিক পরিবর্তন হয়) রয়েছে ১৫ জন পয়েন্টম্যান। কমপক্ষে প্রয়োজন ২৮ জন।’

ঢাকায় যাবেন নগরের দৌলতপুরের আমিনুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুটি কাউন্টার খোলা। টিকিট পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। তা ছাড়া বিশ্রামাগার অনেক সময় সকালে বন্ধ থাকে। এসে লাগেজ ও ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’ নগরীর টুটপাড়ার বাসিন্দা মনিরা ইসলাম বলেন, ‘স্টেশনের সামনে পার্কিং স্থানে গাড়ির জট। লাগেজ নামাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তা ছাড়া ওয়েটিং রুমের বাথরুমগুলোয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।’।

নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা রুমা কবির বলেন, ‘মহিলা কাউন্টার থাকলেও সেটা বন্ধ। ফলে পুরনো রেলস্টেশনের মতোই পুরুষ কাউন্টারে গিয়ে টিকিট নিতে হচ্ছে। এতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। টিকিট রুমে নেই পাখার ব্যবস্থা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত