সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ওই মাদ্রাসার আগের গভর্নিং কমিটি বাতিল করে নতুন ৫ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক উক্ত কমিটি অনুমোদনের জন্য আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
৬ মাস মেয়াদি এই নতুন এডহক কমিটিতে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন চৌধুরীকে সভাপতি, ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইনকে সদস্য সচিব, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিনকে বিদ্যানুরাগী সদস্য, মাওলানা শেখ ফরিদকে শিক্ষক প্রতিনিধি ও ডা. মোহাম্মদ শাহ আলমকে দাতা সদস্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন এডহক কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৫ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি অনুমোদনের জন্য আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় একটি চিঠির মাধ্যমে পূর্বের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বিলুপ্ত করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. আহছান উল্লাহ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ১৮ এপ্রিল অধ্যক্ষের কাছে আসার পর মঙ্গলবার এডহক কমিটি গঠন করা হয়।
সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর হত্যাকাণ্ডে মাদ্রাসার কমিটির একাধিক সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মাদ্রাসা পরিচলানা কমিটির কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিন ও সদস্য ও নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কাউন্সিলর মকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।
এর আগে টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে ১০ এপ্রিল বুধবার রাত নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি।
পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
