চট্টগ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা চলন্ত বাস থামিয়ে চালককে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত জালাল উদ্দিন (৫০) শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে চালক হত্যার প্রতিবাদে আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহনের ৬৮টি রুট এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৯টি রুটসহ মোট ৮৭টি রুটে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট ডেকেছে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এ ছাড়া আগামী রবিবার ভোর ৬টা থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায়ও ২৪ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
শ্যামলী পরিবহনের বাসটির সুপারভাইজর আজিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিকলবাহা ব্রিজ এলাকায় ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে সাতজন বাস থামায়। তারা বাসে উঠে তল্লাশি শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ড্রাইভার জালাল উদ্দিনকে হাতকড়া পরিয়ে বাস থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। পেটাতে পেটাতে আবারও জালালকে বাসের ভেতরে এনে তারা বলেÑ ইয়াবা কোথায় রেখেছিস বল, বের করে দে। ড্রাইভার তার কাছে কোনো ইয়াবা নেই জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিবি সদস্যরা তাকে আবারও নামিয়ে রাস্তার পাশে অন্ধকারের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়, রাস্তায় ফেলে লাথি মারা হয়। ১০-১৫ মিনিট পর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বাসের ভেতরে ফেলে ডিবি সদস্যরা দ্রুত চলে যায়।’
এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম শহর থেকে বিকল্প চালক এনে বাসটিকে নগরীর কর্নেলহাট কাউন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় জানিয়ে সুপারভাইজর আজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে আমরা ড্রাইভার জালালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ মর্গে পাঠানো হয়।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চল কমিটির (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন, ‘চালককে বাস থেকে যারা নামিয়েছিল তাদের কাছে হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি এবং অস্ত্র ছিল। একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে এসে চালকের হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে তাকে নামানো হয় এবং রাস্তার পাশে নিয়ে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে তার মুখের ওপর পানি ঢালা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করে তাকে বাসে ফেলে মাইক্রোবাসে করে খুনিরা চলে যায়। আমরা তাদের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য হিসেবেই চিহ্নিত করছি এবং প্রশাসনের কাছে জড়িতদের বিচার দাবি করছি।’
