যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:১৩ এএম

লক্ষ্মীপুর রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৮নং চরবগা ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক শিপন চৌধুরীকে আসামি করে রায়পুর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। কিশোরীকে উদ্ধার করে গতকাল মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইলে পাকিস্তানি কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আল আমিনকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। গতকাল কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর থানার পঞ্চনগর গ্রামের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মধ্যধল্যা গ্রামে প্রতিবন্ধী এক কিশোরী (১৩) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে আল-আমিন দেওয়ানকে (২৫) আসামি করে থানায় মামলা করেছেন কিশোরীর মা। গতকাল দুপুরে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ : লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় ওই কিশোরীর মা অভিযোগ করে জানান, সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের একটি বাড়িতে তারা ভাড়া থাকেন। প্রায় তিন মাস আগে যুবলীগ নেতা শিপন চৌধুরী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এরপর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে গত ২০ এপ্রিল স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তার মেয়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

কিশোরীর মা অভিযোগ করে বলেন, ‘গত শনিবার বিষয়টি যুবলীগ নেতার পরিবারকে জানালে মারধর করে আমার বাম হাত ভেঙে দেয় শিপন চৌধুরী। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে ও আমার মেয়েকে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবলীগ নেতা শিপন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা ইতোমধ্যে ডাক্তারদের সমন্বয়ে বোর্ড বসিয়েছি। বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। কালকে রিপোর্ট হাতে পাব।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, আমরা আপাতত কিশোরীর মায়ের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে শিপন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছি। কিশোরীর ডাক্তারি রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণ মামলা নেওয়া হবে।টাঙ্গাইলে পাকিস্তানি কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার : টাঙ্গাইলে পাকিস্তানি কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। গতকাল কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর থানার পঞ্চনগর গ্রামের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিরাজগঞ্জের র‌্যাব-১২-এর সদর দপ্তরে গতকাল অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-১২ সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। ২৩ এপ্রিল র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থানার পঞ্চনগর এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

টাঙ্গাইলের গোপালুর থানার হুমায়ুন কবীর পাকিস্তানে থাকাকালে নিলুফা ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ মাস আগে ওই পাকিস্তানি নারী মেয়ে হুমায়রা বাবুকে (১৭) নিয়ে ভাসুর আবুল হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ১৬ এপ্রিল ওই কিশোরীকে অপহরণ করে আল আমিন। পরদিন সে বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমায়রাকে নির্যাতন করে। পরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানার মহিষাকান্দি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

মানিকগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মধ্যধল্যা গ্রামে প্রতিবন্ধী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে আল-আমিন দেওয়ানকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন কিশোরীর মা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কিশোরীর মা বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে ছাগল চড়াতে যাই। এ সময় প্রতিবেশী আল-আমিন মেয়েকে ফুঁসলিয়ে ফোর্ডসিটি কাঠবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। দুপুরে আমার বড় কন্যা তাকে গোসল করাতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন দেখতে পায়। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসা করলে আমাদের কাছে ধর্ষণের ঘটনাটি খুলে বলে।’

সিংগাইর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, সোমবার রাতে সিংগাইর থানায় আল-আমিনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন অভিযুক্তের মা। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে একাধিক টিম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

বাগেরহাটে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামি রিমান্ডে : বাগেরহাটের রামপালে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মুদি দোকানি ফেরদৌস শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন এবং ধর্ষণের শিকার শিশুটির তথ্য গোপন ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমানকে জেলগেটে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক স্বপন কুমার সরকার শুনানি শেষে ওই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ওই রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

গত রবিবার পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালতের বিচারক গতকাল শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

এদিকে, ঘটনার চার দিন পার হলেও অন্য দুই এজাহারনামীয় আসামি গ্রেপ্তার হওয়া অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমানের স্ত্রী ও মাদ্রাসার শিক্ষককে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত