ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের বাইরের মাঠে ইট-বালু রেখে দখলে নিয়েছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ দখল আর মাঠে থাকা ইটভাঙার যন্ত্রের শব্দদূষণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও প্রতিকার পাননি।
শহরের কাউতলী এলাকার নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়াম জেলার খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র। এর বাইরের খোলা মাঠও স্থানীয় কিশোর-তরুণদের খেলার জায়গা। কয়েক মাস ধরে এ মাঠে রাখা হয়েছে ইট-বালু। অভিযোগ রয়েছে, নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের মোটর পার্টস বিক্রেতা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেন্টু মিয়া এবং কাউতলী এলাকার প্রভাবশালী দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে মাঠটি দখল করে ইট-বালু, সুরকির ব্যবসা চলছে।
এলাকাবাসী দুর্ভোগ পোহালেও দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদও করতে পারছেন না। সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীরা আসর জমায়।
স্টেডিয়াম মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ওই মাঠে বিভিন্ন ধরনের মাদকও কেনাবেচা হয়। দিনে ইটভাঙা যন্ত্রের বিকট শব্দে কিছু শোনা যায় না। তারা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চান। এলাকার কজন কিশোর জানায়, ‘স্টেডিয়ামের ভেতরে বড় খেলা-টুর্র্নামেন্ট থাকে। তাই আমরা সেখানে খেলার সুযোগ পাই না। কিছুদিন আগেও আমরা এই আউটার স্টেডিয়ামে খেলাধুলা করতে পারতাম। কিন্তু এখন দখলের কারণে খেলতে পারি না।’
সেন্টু মিয়া বলেন, ‘আমি অস্থায়ীভাবে ইট-বালুর ব্যবসা করি। মাঠ খালি থাকায় কিছুদিন এখানে ইট-বালু রেখেছিলাম। এখন আর রাখব না।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল চৌধুরী মন্টু বলেন, ‘বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও প্রভাবশালীদের দাপটের কারণে আউটার ফিল্ড দখলমুক্ত করতে পারিনি।’ এ ব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, ‘দখলের বিষয়টি অনেকেই আমার কাছে বলেছেন। যারা দখল করে রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
