প্রতি বছর আফ্রিকা থেকে শত শত কোটি ডলার মূল্যের সোনা পাচার হচ্ছে। এগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
কাস্টমস বিভাগের নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে আফ্রিকা থেকে ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলার মূল্যের সোনা আমদানি করে ইউএই। এটি অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। ২০০৬ সালে দেশটি আফ্রিকা থেকে সোনা এনেছিল ১৩০ কোটি ডলারের। ২০১৬ সালে বিভিন্ন মানের ৪৪৬ টন সোনা আনে ইউএই, ২০০৬ সালে যার পরিমাণ ছিল ৬৭ টন।
ইউএইর আমদানিকৃত এসব সোনার বেশিরভাগের হিসাব নেই আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর রপ্তানি রেকর্ডে। এ বিষয়ে পাঁচজন বাণিজ্যবিষয়ক অর্থনীতিবিদ রয়টার্সকে জানান, হদিস না থাকার মানে দাঁড়াচ্ছে, উৎপাদনকারী দেশগুলোকে কোনো ধরনের কর দেওয়া ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সোনা চলে যাচ্ছে আফ্রিকার বাইরে।
এর আগের কিছু প্রতিবেদন ও গবেষণায় দেখা যায়, ব্যক্তি উদ্যোগে খনন করা সোনার কালোবাজারে যুক্ত শিশুরাও। যদিও তাদের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্তি নেই বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের। স্বর্ণখনি খনন কিংবা বাছাইয়ের সময় রাষ্ট্রীয় নজরদারি নেই বললেই চলে। বাণিজ্যিকভাবে সোনা উৎপাদনকারী আফ্রিকার কিছু প্রতিষ্ঠান রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা ইউএইর কাছে স্বর্ণ রপ্তানি করেনি। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে স্বর্ণ যাচ্ছে অন্য ও অপ্রচলিত উপায়ে।
স্বর্ণ উৎপাদনের অপ্রচলিত পদ্ধতি এ শিল্পে ‘আর্টিস্যানাল’ বা ছোট পরিসরে খনন হিসেবে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে এ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে। এমন উপায়ে সোনা উৎপাদন ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে আফ্রিকার লাখ লাখ মানুষ। তবে প্রক্রিয়ার সমস্যা হলো, এর মধ্য দিয়ে রাসায়নিক মিশছে পাথর, মাটি ও নদীতে। ঘানা, তাঞ্জানিয়া ও জাম্বিয়ার মতো আফ্রিকার কিছু রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, স্বর্ণ অবৈধ উপায়ে উৎপাদন হচ্ছে এবং তাদের দেশ থেকে মূল্যবান খনিজ সম্পদটি বিপুল হারে বাইরে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কখনো কখনো অপরাধমূলক তৎপরতার মাধ্যমে সোনা পাচার হচ্ছে। এতে মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি বিপুল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বর্ণ খনন নিয়ে এক সম্মেলনে ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে খননের ‘রোমাঞ্চকর’ যুগ ‘বড় পরিসরে ও মারাত্মক’ অভিযানের সুযোগ করে দিয়েছে বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অপরাধী চক্রগুলোকে।
