কুমিল্লায় বিদ্যালয়গুলোতে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে ঘটছে খুন, মারামারিসহ নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল শবেবরাতে মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্র মোমতাহিন হাসান মিরনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পরে টনক নড়ে পুলিশ ও প্রশাসনের। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর স্কুলগুলোর অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্ররা গোপনে সংগঠিত হয়ে গড়ে তুলেছে এই কিশোর গ্যাং। র্যাক্স, ঈগল, আরজিএস, এক্স, সিএমএইচএস, সাউথ, মাসলম্যান ইত্যাদি নামে তারা সক্রিয়। তাদের বিরুদ্ধে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মধ্যরাত পর্যন্ত বাইরে থেকে নানা ধরনের বখাটেপনার অভিযোগ রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এ গ্রুপগুলো। বন্ধুদের হাতে মোমতাহিন হত্যার আগে গত ১৬ এপ্রিল কুমিল্লা জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র মারুফসহ দুজনকে ছুরিকাঘাত করে কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুলের ছাত্র তৌকি। এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের স্কুলব্যাগে থাকে ছুরি, চাপাতি, খুরসহ ছোট ধারালো অস্ত্র। বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মোমতাহিন হত্যার পর নগরীর বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ ও প্রশাসন। মঙ্গল ও গতকাল বুধবারের অভিযানে জব্দ করা হয় নানা রকম ছুরি, চাকু, চাপাতি, কাটার ও গিয়ার ছুরি। দোকানে এগুলো বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত ও মারামারির ঘটনা ঠেকাতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ টহল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্কুলগুলোতে গড়ে ওঠা এই কিশোর গ্যাং শহরের কান্দিরপাড়, পুলিশ লাইন রোড, লাকসাম রোড ও নজরুল এভিনিউ, নিউ মার্কেট এলাকায় সক্রিয়। এ ছাড়া তাদের অবস্থান থাকে নগরীর সাইবার গেমের দোকানগুলোতে। প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় গ্রুপগুলো। কুমিল্লা জিলা স্কুল, কালেক্টরেট স্কুল, ফজিলাতুন্নেছা মডার্ন স্কুল, কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলসহ আরও বেশ কয়েকটি স্কুলে এই কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। মূলত বখাটেপনা, হর্ন বাজিয়ে মোটরসাইকেল চালানো, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে তারা। প্রতি গ্রুপে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে। এরা সবাই স্কুলের ছাত্র। গ্রুপের কোনোটিতে রয়েছে এলাকার বড় ভাইয়েরা।
এ বিষয়ে কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান বলেন, ‘ইতিমধ্যেই স্কুল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়ে উদ্যোগ নেব যেন শিক্ষার্থীরা এসব বখাটেপনা থেকে ফিরে আসে।’ জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর জানান, স্কুল চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থী যাতে বাইরে থাকতে না পারে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগরীর সব দোকানে ছুরি ও মারামারিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
