নুসরাত হত্যা

সেই মাদ্রাসায় পড়তে চান না নুসরাতের ছোট ভাই

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১০:২০ পিএম

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আর পড়তে চান না নুসরাত জাহান রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান তিনি। রায়হান ওই মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র।

রায়হান বলেন, কীভাবে ওই মাদ্রাসায় পড়ব? কি জবাব দেবো সহপাঠি ও শিক্ষকদের? কীভাবে ভুলবো আমার আপুর অসহ্য যন্ত্রণার কথা? আমি আর ওই মাদ্রাসায় পড়বো না। আমার বোনও মাকে বলেছিলে আলিম পাস করার পর ওই মাদ্রাসায় আর ভর্তি হবো না। ফেনীর অন্য যে কোন মাদ্রাসায় ফাজিলে ভর্তি হয়ে লেখা পড়ার কথা বলেছিল সে।

রায়হান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের সময় তিনি বলেছিলেন দাখিল পরীক্ষার তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেবেন তিনি। দাখিল পাস করে তার সাথে সাক্ষাত করে জানাবো তিনি সহযোগিতা করলে আমি উন্নত দেশে পড়ালেখা করতে চাই। আমার বোনের স্মৃতি যেন হারিয়ে না যায়। দেশবাসীর সহযোগিতায় আমার বোনের প্রতিবাদের এই দৃষ্টান্ত কখনো হেরে যেতে দেব না।

গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার ১০ দিন পর ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের উপরে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুগতরা। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল বুধবার রাত নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এখন পর্যন্ত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রুহুল আমীন, পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলমসহ ২১জনকে জনকে আটক করেছে করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

আটজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মণি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত