ফের আন্দোলনের হুমকি পাটকল শ্রমিকদের

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৩৯ এএম

গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে বকেয়া মজুরি ও বেতন-ভাতা পরিশোধের কথা থাকলেও খুলনার নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের তা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া সম্প্রতি মিলগুলোকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে চালানো হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ। বিজেএমসি বকেয়া পরিশোধে আবারও ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২ মে থেকে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন শ্রমিকরা।

পাটকল শ্রমিক নেতারা জানান, বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) চেয়ারম্যানের ঘোষণা অনুযায়ী শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যে পাটকলগুলোকে পিপিপির মাধ্যমে চালানোর ঘোষণায় শ্রমিকরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে শিল্পাঞ্চলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে গত ২ এপ্রিল থেকে ৭২ ঘণ্টা পাটকলে ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে পাটকল শ্রমিকরা। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৫ এপ্রিল থেকে তারা ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট এবং সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে। ওই দিন রাতে ঢাকায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও বিজেএমসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। বৈঠকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া সব মজুরি পরিশোধ এবং ১৭ মের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি ফিক্সেশন সম্পন্ন করা ও ১৮ মে খাতায় ওঠানো অর্থাৎ শ্রমিকদের অনুকূলে মজুরি স্লিপ প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী মজুরি ফিক্সেশনের কাজ শুরু করেছে মিলগুলো। কিন্তু ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়নি।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন বলেন, ‘কোনো মিলেই বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। বিজেএমসি বকেয়া পরিশোধের জন্য ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২ মে থেকে লাগাতার ধর্মঘট ও অবরোধ শুরু হবে।’

বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক লিয়াজোঁ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিজেএমসির প্রধান কার্যালয় থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ আসেনি। শ্রমিকদের কাছে সাত দিনের সময় চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রী এবং বিজেএমসি চেয়ারম্যান বিদেশে। তারা না ফিরলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।’

বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় জানায়, খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, খালিশপুর, দৌলতপুর, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলে স্থায়ী শ্রমিক আছে ১৩ হাজার ১৭০ জন এবং বদলি শ্রমিক ১৭ হাজার ৪১৩ জন। শ্রমিকদের ৬ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাদের পাওনার পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত