বখাটেদের উৎপাতের কারণে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ২০ ছাত্রী গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ রেখেছে। উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিণা কেআর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বখাটেদের উৎপাতের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে নিরাপত্তার অভাবে তারা বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে।
মাঝদক্ষিণা কেআর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী দশম শ্রেণির ছাত্রী লিলি ও ঊর্মি দেশ রূপান্তরকে জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রায় প্রতিদিনই ৮-১০ জনের একটি বখাটে দল মাঝদক্ষিণা বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের উদ্দেশে বিভিন্ন আপত্তিকর ও অশ্লীল কটূক্তিসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ২০ তারিখে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বিভিন্ন ধরনের যৌন হয়রানিমূলক কথা বললে ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান আলীর কাছে আট বখাটের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেননি।
ছাত্রীদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শাজাহান আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুসকে বলেছি। তিনি গত ২৪ এপ্রিল এ নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক ডেকেছিলেন। কিন্তু তিনি (চেয়ারম্যান) একটি বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই বৈঠক হয়নি। আগামী রবিবার আবারও বৈঠক ডাকা হয়েছে। নোটিসের মাধ্যমে ওই বৈঠকে বখাটেদের অভিভাবকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ওই বৈঠকে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি।’
দেশীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘অনিবার্য কারণে গত ২৪ এপ্রিলের বৈঠকটি হয়নি। আগামী রবিবার উভয় পক্ষের অভিভাবকদের বৈঠকে ডেকেছি। আশা করি, সেদিন এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তাড়াশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তাড়াশ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
