মেঝেতে পড়ে আছেন মা। ছেলের নিথর দেহ বিছানার ওপর পড়ে থাকলেও তিনি কিছুই করতে পারলেন না। এভাবে গুমোট একটি ঘরে তিন দিন কাটলো পঙ্গু মায়ের। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, এই কয়েক দিনে খাবার তো দূরের, এক ফোঁটা পানিও পান করতে পারেননি মা। তার যে নড়াচড়ার ক্ষমতা নেই।
তবে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, ছেলের মৃত্যুর খবর জানানোর জন্য খাট থেকে নামতে গিয়েই মেঝেতে পড়ে যান ওই বৃদ্ধা।
শুক্রবার সকাল থেকে কটু গন্ধ পাওয়ায় বরাহনগরের শশীভূষণ নিয়োগী গার্ডেন লেনের বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে দেখেন খাটে পড়ে আছে মৃত ছেলে, যার শরীরে পচন ধরে গিয়েছে। মেঝেতে মা। দুজনের শরীরেই পিঁপড়ে, পোকামাকড় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মৃতের নাম পার্থসারথি ঘোষ (৪৬)। মা গৌরী ঘোষের বয়স ৭১।
পার্থসারথির দেহ উদ্ধারের পরে পুলিশ স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। তার মাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, একতলা বাড়ির চারদিকের দরজাই কয়েক দিন ধরে বন্ধ ছিল। খোলা ছিল শুধু কয়েকটি জানলা। এ দিন সকাল থেকে কটু গন্ধে ওই বাড়ির ধারেকাছে যাওয়া যাচ্ছিল না। বাসিন্দারা দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়েছেন। জানলা থেকে ডাকাডাকিও করেছেন। কিন্তু সাড়া মেলেনি কারো।
পুলিশকে ওই বৃদ্ধা জানান, মঙ্গলবার রাতে ছেলে মারা যায়। তিনি প্রতিবেশীদের ডাকার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে সেই শব্দ কেউ শুনতে পাননি।
