সাংবাদিকদের মনিরুল

শ্রীলঙ্কা ফেরত ১১ শ্রমিকের অপরাধ পায়নি সিটিটিসি

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৫৬ এএম

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসা ১১ শ্রমিকের এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধ রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত তারা হামলার বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মনিরুল বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলায় ইনসাফ আহমেদ ইব্রাহিমের নাম আসায় দেশটির সরকার তার মালিকানাধীন কলসাস মেটাল ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেয়। বন্ধ করার পর ওই ফ্যাক্টরিতে কর্মরত কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ১১ জন বাংলাদেশির ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হস্তান্তর করলে গত শুক্রবার তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে আরও অন্যান্য দেশের শ্রমিকরাও ছিল, তাদেরও ফেরত পাঠানো হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত ওই ১১ জন বাংলাদেশি ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে নি¤œ বেতনে কলসাস মেটাল ফ্যাক্টরিতে কাজ করত। তারা ওই ফ্যাক্টরিতে তামার তৈজসপত্র তৈরি করত। এরা ছিল একেবারে সাধারণ শ্রমিক। ফ্যাক্টরির মালিকের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।’

সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে ফেরত আসার পর আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, ‘বৈশ্বিক ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশ ঝুঁকিতে থাকলেও কোনো হামলার আশঙ্কা নেই। আমাদের দেশে কোনো হুমকি বা হামলার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যেসব নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন রয়েছে, তারা নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ঘটনায় অনুপ্রাণিত হতে পারে। তবে বর্তমানে এসব জঙ্গি সংগঠনের কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানোর শক্তি বা সামর্থ্য নেই। আমরা সজাগ ও তৎপর রয়েছি।’

শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার পর ফেরত পাঠানো ১১ শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাদের আটক করা হয়। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার পর বন্ধ করে দেওয়া তামার তার তৈরির একটি কারখানায় ওই বাংলাদেশিরা কাজ করতেন।

গত রবিবার সকালে ইস্টার সানডের প্রার্থনার মধ্যে বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত ২৫৩ জন নিহত ও আহত হয়েছেন আরও ৫০০ জন। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীও রয়েছে। গুরুতর আহত জায়ানের বাবা এখনো শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসাধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত