রাস্তার গাছ কেটে ভুল স্বীকার

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৫২ পিএম

জয়পুরহাটে দিনে-দুপুরে প্রভাবশালীরা কেটে নিয়ে গেল রাস্তার সরকারি বেশ কয়টি গাছ। ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা-জামালগঞ্জ ঘুগোইল গ্রামের বাইপাস পাকা রোডের গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। গাছগুলো কাটার পর তা স্বীকার করে জয়পুরহাট জেলা পরিষদে একটি লিখিত আবেদন করেছেন এলাকার প্রভাবশালী আবদুর রাজ্জাক। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হেফাজতে দিয়েছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা-জামালগঞ্জ রোডের ঘুগোইল গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের জমিতে কয়েক ধরনের গাছ লাগানো ছিল। তিন দিন আগে থেকে তার জমির গাছগুলো কাটা শুরু করেন। সেগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় গত বৃহস্পতিবার পাকা রাস্তার সঙ্গে সরকারি রাস্তার পাশের শিমুল ও ইউকেলিপ্টাসের বড় চারটি গাছসহ বেশ কয়েকটি গাছ কেটে নিয়ে যায় আবদুর রাজ্জাকের লোকজন। পরে স্থানীয়রা জেলা পরিষদে খবর দিলে অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন গাছগুলো কাটা এবং পাশেই মজুদ করে রাখা হয়েছে।

গাছ কাটার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জেলা পরিষদ বরাবর ভুলবশত গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে একটি লিখিত আবেদন করেন আবদুর রাজ্জাক। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান ঘটনাস্থলে এসে গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল ওয়াদুদকে তার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার রাস্তার পাশের জমির গাছগুলো কাটার সময় সরকারি কয়টি গাছ ভুলবশত কাটা হয়েছে। কাটার পরই আমি জেলা পরিষদে একটি লিখিত আবেদন করেছি।’

ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল ওয়াদুদ জানান, ইউএনও এসে গাছগুলো উদ্ধার করে তার হেফাজতে দিয়েছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান বলেন, ‘গাছ কাটার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি জানান, রাস্তার গাছ কাটা হয়েছে কি না সেটা নিরূপণের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্ভেয়ারের রিপোর্ট সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জয়পুরহাট জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ অতুল মণ্ডল গাছ কাটার বিষয়ে লিখিত আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত