‘দেশে এখন কোনো কিছু লিখতে ও সমালোচনা করতে গেলে তার আগে কয়েকবার ভেবে দেখতে হয়। সরকার ও দলের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা যায় না। কেউ সমালোচনা করলে তাকেসহ তার চৌদ্দগুষ্টিকে হয়রানি করা হয়। ধনীর হার ক্রমাগত বাড়ছে। চলছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। দেশ চলছে পুঁজিবাদ ও নজরদারি মডেলে।’ গতকাল সোমবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘ক্রিটিক্যাল কনভারসেশন-২০১৯’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বিআইডিএস আয়োজিত এ আলোচনা সভার সমাপনী অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। এতে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন।
আনু মোহাম্মদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং সামরিক শাসনামলের চেয়েও এখন বেশি চিন্তা করতে হয় কী বলা যাবে আর কী লেখা যাবে তা নিয়ে। ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকার একবার ব্লাসফেমি আইন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আন্দোলনের মুখে দলটি তখন পিছু হটে। সে আইন না থাকলেও অলিখিতভাবে এখন চলছে। যে কাউকে নজরদারি করার প্রবণতা বেড়ে গেছে।’
সারা হোসেন বলেন, ‘দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। প্রচুর আইন আছে, আইনি প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু ২০ বছর আগের ঘটনার সঠিক বিচার হয় না।’
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সাংস্কৃতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থানে আছে। দেশে রাজনীতি ও অর্থনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না।’
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দেশে যারা নিয়ম ভাঙছে তারাই নিয়ম তৈরি করছে। দেশে অতি ধনিক শ্রেণি তৈরি হচ্ছে। উচ্চমূল্যে প্রকল্পের কাজ দেওয়া হচ্ছে। দেশ থেকে মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত।’
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, ‘মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় বেশি শুধু বাংলাদেশেই নয়, অনেক দেশেই বেশি লাগে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও আব্রাহাম লিঙ্কনের মৃত্যুর কারণ আজ পর্যন্ত দেশটি বের করতে পারেনি।’
