নৌবাহিনীর ৩২ জাহাজ বিমানবাহিনীর সব হেলিকপ্টার প্রস্তুত

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ০২:২৬ এএম

ঘূর্ণিঝড় ফণিপরবর্তী জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তাসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সব হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে গতকাল রাতে আইএসপিআর জানিয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা

নৌ অঞ্চলে নৌবাহিনীর ৩২টি জাহাজ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় দ্রুততম সময়ে জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুরসহ উপকূলীয় দুর্গত এলাকাগুলোতে মোতায়েনের জন্য নৌ কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, দুর্যোগপরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ মেঘনা বরিশালে, বানৌজা তিস্তা ঝালকাঠিতে, এলসিটি-১০৪ বরগুনায় এবং এলসিভিপি-০১১ পটুয়াখালীতে নিয়োজিত থাকবে। জাহাজগুলো জরুরি খাদ্যসামগ্রী হিসেবে দুই হাজার পরিবারের তিন দিনের শুকনা খাবার বহন করছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য শুকনা খাবার হিসেবে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি তেল, ২ কেজি লবণ, ২ কেজি চিড়া, ২ কেজি মুড়ি, ১ কেজি গুড়, প্যাকেট বিস্কুট, মোমবাতি, পলিথিন ব্যাগ, দিয়াশলাই, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রয়েছে।

এ ছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণের কাজে নিয়োজিত থাকবে। নৌ কন্টিনজেন্টগুলো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সড়কপথে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য নিয়োজিত থাকবে।

বিমানবাহিনীর পরিবহন উড়োজাহাজ প্রস্তুত : ঘূর্ণিঝড় ফণি-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সব পরিবহন উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারে খোলা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সেখানে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমানবাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু, কুর্মিটোলায় পরিবহন বিমান সি-১৩০ এবং এএন-৩২ ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত জনগণের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য তিনটি এএন-৩২ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে বিমানবাহিনী ঘাঁটি মতিউর রহমান বরিশাল বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় জনবল ও বিমান মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত