ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র জোরালো প্রভাব পড়েনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। গতিপথ কিছুটা পাল্টে এটি নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওড়িশা হয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ঢুকে ‘ফণি’।
আনন্দবাজার জানায়, আশঙ্কা করা হচ্ছিল কলকাতার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাবে। তবে রাতের দিকে ঝোড়ো হাওয়া বইলেও তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার।
এতে শহরের কিছু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে। হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাতভর প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে রাজ্যের উপকূলীয় এলাকা দিঘায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। উপকূল ছাপিয়ে নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করে সন্ধ্যার সময়। আগে থেকেই ওই সব এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল এবং তার লাগোয়া এলাকা থেকে ২৩ হাজার ৬৮০, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ হাজার ৯৪৫, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৩ হাজার ৯৪৪, কলকাতা পুলিশ এলাকা থেকে প্রায় চার হাজার এবং ঝাড়গ্রাম থেকে ৮৫ জনকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পশ্চিম মেদিনীপুরের পিয়াশালার কুন্দরীশোল গ্রামে বজ্রপাতে ভৈরব সাউ নামে ১২ বছরের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে চারটি দোকান, ২৭টি মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝাড়গ্রামে ২০টি কাঁচা বাড়ি আংশিক ভেঙে পড়েছে। তবে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
