৫ বেসরকারি খাত নিয়ে গবেষণা

ছুটির দিনেও কাজ করেন ৮০ শতাংশ শ্রমিক

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ০৩:০০ এএম

আইন অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের কথা থাকলেও বাংলাদেশে তা মানা হচ্ছে না। ৮০ শতাংশের বেশি শ্রমিক মে দিবস ও স্বাভাবিক সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আইএলও কনভেনশন নম্বর-১-এর শতবর্ষ পূর্তি এবং বাংলাদেশে কর্মঘণ্টার বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়।

মহান মে দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তাকর্মী, পরিবহন খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ, রি-রোলিং মিল ও হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারÑ এই পাঁচটি প্রচলিত বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের নিয়ে বিলস এই প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে বলা হয়, প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিরাপত্তাকর্মী দৈনিক ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ৫০ শতাংশ কর্মী কোনো কর্মবিরতি পান না। প্রায় ৬৬ শতাংশ নিরাপত্তাকর্মীর সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারিত নেই।

হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিক নিয়ে বলা হয়, প্রায় ৯৮ শতাংশ ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। প্রায় ১৪ শতাংশ শ্রমিক কাজ করেন ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি। কর্মবিরতি ছাড়া কাজ করেন ২৬ শতাংশ। ৮০ শতাংশের বেশি শ্রমিকের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। এ ছাড়া রি-রোলিং খাতে ৯২ শতাংশ শ্রমিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। প্রায় ১৬ শতাংশ দৈনিক ১৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করেন। ৯৬ শতাংশ শ্রমিককে দৈনিক একাধিক শিফটে কাজ করতে দেখা যায়। ৪৪ শতাংশ শ্রমিক দৈনিক গড়ে দুটি কারখানায় কাজ করেন। রি-রোলিং খাতের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শ্রমিককে দৈনিক গড়ে তিনটি কারখানায় কাজ করতে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সেমিনারে বিলস-এর মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১৯৭২ সালে বাংলাদেশ আইএলওর সদস্য হলেও এত বছরেও আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়ন করছে না। শ্রম আইন থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নাই।’ বিলস এর ভাইস চেয়ারম্যান শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও অংশ নেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজের অধ্যাপক জাকির হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম নাসিম, ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন, স্বপন, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক ড. হামিদা হোসেন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত