সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ০২:১৩ এএম

বছরওয়ারি বিবরণীর মাধ্যমে গত এক দশকে অর্জিত সম্পদের হিসাব দিতে হবে সব শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের। নির্ধারিত ছকে তাদের সম্পদের হিসাব জমা নেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর সরকারের কর্মীদের হিসাব দেওয়ার বিধান থাকলেও ২০০৮ সালের পর কোনো হিসাব নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

এ বছর ১৭ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধের নির্দেশের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও কৌশল পর্যালোচনায় গত ২৭ মার্চ জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে ধারণাপত্র তৈরির জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধারণাপত্র তৈরি করার কাজ শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনো কাজ করছি। প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে শিগগিরই জনপ্রশাসন সচিবের কাছে উপস্থাপন করা হবে।’ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে। বিষয়টি যেহেতু বিধিমালার মধ্যেই আছে। সরকারি কর্মচারী এটা দেবে। এ বিষয়টা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে ভালো কিছু বলতে পারব। কারণ চাকরিবিধির মধ্যেই আছে। নতুন করে লিখতে হচ্ছে না। আইন করারও কোনো প্রয়োজন নেই। যে বিধান রয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করাটাই হচ্ছে আমাদের কাজ। খুব দ্রুত করতে যাচ্ছি আমরা এটা।’

১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিতে প্রবেশের সময় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের দখলে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ঘোষণা এবং প্রতি পাঁচ বছর পরপর সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধি উল্লেখ করে সরকারের কাছে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। ওই বিধিতে ক্যাডার কিংবা নন-ক্যাডার কর্মকর্তার কোনো উল্লেখ নেই। সব গণকর্মচারীর জন্য একই বিধান প্রযোজ্য।

সর্বশেষ ২০০৮ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসাব নেওয়া হয়। ওই হিসাব বস্তাবন্দি হয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। সেগুলো পর্যালোচনা করে বলা হয়নি কার সম্পদ বেড়েছে বা কমেছে। এরপর ২০১৫ সালে শুধু ভূমি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হলেও তা পর্যালোচনা করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার নির্ধারিত ছকে সব শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সম্পদের বিবরণীর ওই ছকে কী আছে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থাবর ও অস্থাবর দুই ধরনের সম্পদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কৃষি ও অকৃষি জমি, ইমারত, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাখা হয়েছে। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে অলংকার, শেয়ার, বীমা, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, মোটর ভেহিক্যাল, কম্পিউটার, টেলিভিশন, এয়ারকুলার, রেফ্রিজারেটর ও ওভেনসহ ব্যবহার্য সম্পদের বিবরণ থাকবে।

এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিধান রয়েছে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালায়। প্রতি পাঁচ বছর পরপর সম্পদের হিসাব দিতে তারা বাধ্য। এ ধরনের বিধান বিধিমালায় থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বিধানটি বাস্তবায়ন করা উচিত। শুধু সম্পদের হিসাব নিলেই চলবে না, হিসাববিবরণী পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত