ইরান ঝামেলাপূর্ণ ‘ইঙ্গিত ও হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে অভিযোগ করে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী ও বোমারু বিমান পাঠাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এর মাধ্যমে ‘অদম্য বাহিনী’ দিয়ে যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিষয়ে কট্টর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন স্থানীয় সময় রবিবার এ ঘোষণা দেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে রণতরী মোতায়েনকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের বাহিনী ও তাদের বদলি হয়ে যুদ্ধ করা মিলিশিয়াদের প্রতি বাধা হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, শিগগিরই ইরান হামলা চালাতে পারে বলে মনে করছে না যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে উত্তেজনা আপাত বাড়ানোর এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জন বোল্টন বলেন, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় মনোভাবের ‘স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট’ বার্তা পাঠানো হয়েছে।
বোল্টনের বক্তব্যে ইরানের সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়নি, যা উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইরান সতর্ক করে বলেছিল, কৌশলগত পানিপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে বাধা দেওয়া হলে তারা এর প্রবেশপথ আটকে দেবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে পৌঁছানো তেলের এক-পঞ্চমাংশ যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
এক বিবৃতিতে বোল্টন বলেন, ‘ইরানে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যুদ্ধ বাধাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তবে বদলি কেউ, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) কিংবা ইরানের নিয়মিত বাহিনীর যেকোনো হামলার জবাব দিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’ তার এ বিবৃতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বেশ কিছু উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করল।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের তেল কেনার ওপর কিছু দেশকে দেওয়া ছাড় প্রত্যাহার করে নেবে তারা। এর মধ্য দিয়ে দেশটি ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যের কোটায় নামাতে চায়। দেশটি ইরানের আইআরজিসিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। বাহিনীটিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাকে ‘আমেরিকান উসকানি’ মনে করছে ইরান।
ইরানকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হয় গত বছর। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমাতে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে ২০১৫ সালে করা ইরানের চুক্তি থেকে সে বছর একতরফাভাবে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও একটি বোমারু টাস্ক ফোর্স সেন্ট্রাল কমান্ড অঞ্চলে পাঠাচ্ছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের মিত্রদের স্বার্থের ওপর কোনো আঘাতের জবাব অদম্য শক্তি দিয়ে দেওয়া হবে বলে ইরানের ক্ষমতাসীনদের স্বচ্ছ ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে গত ১ এপ্রিল দেশটির ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নরফোক ছেড়েছে রণতরী ও সঙ্গী জাহাজের বহর। সে সময় তরীগুলোর কোনো গন্তব্য জানায়নি বাহিনীটি।
